প্রান্তিক থেকে সরাসরি সিউড়ি! হাজার কোটি টাকার রেল প্রকল্পে বিরাট মোড়, একনজরে জানুন কী পরিকল্পনা

বীরভূমের রেল যোগাযোগ পরিকাঠামো এবং পর্যটন শিল্পকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ করল প্রশাসন। জেলার দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রকল্প—প্রান্তিক–সিউড়ি নতুন রেললাইন এবং সিউড়ি–নালা নতুন রেললাইন—এর বর্তমান অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কলকাতার ফেয়ারলি প্লেসে পূর্ব রেলের সদর দফতরে একটি উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উচ্চশিক্ষা দফতরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার গীতিকা পাণ্ডে এবং বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈন। রেল যোগাযোগ শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিখ্যাত তীর্থক্ষেত্র বক্রেশ্বর ধাম ও সংলগ্ন এলাকায় পর্যটকদের যাতায়াত আরও সুগম করার বিষয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
প্রান্তিক–সিউড়ি নতুন রেললাইন প্রকল্প: প্রায় ৩৩.৯৮ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রান্তিক–সিউড়ি নতুন রেললাইন প্রকল্পটি ২০১০–১১ সালে চিনপাই–সাঁইথিয়া ডাবলিং প্রকল্পের একটি মডিফিকেশন হিসেবে অনুমোদিত হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ১৪৯.৫৬ কোটি টাকার এই প্রকল্পের বর্তমান আনুমানিক ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১,০০০ কোটি টাকা। ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে এই প্রকল্পের জন্য ১০.৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে নতুন করে কাজ শুরু হওয়ার পর ‘সিভিল মন্ত্রা’-কে অ্যালাইনমেন্ট পুনর্মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়। রেলওয়ে বোর্ডের নির্দেশিকা মেনে ড্রোনের মাধ্যমে স্থল যাচাই ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চালিয়ে তিনটি বিকল্পের মধ্যে তৃতীয় বিকল্পটি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।
বসবাসের জায়গা, নদী ও খালের উপর ন্যূনতম প্রভাব ফেলে সর্বাধিক গ্রামকে রেল যোগাযোগের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে প্রায় ২৫০.৬২৭ হেক্টর জমি প্রয়োজন হবে। প্রস্তাবিত সাতটি স্টেশন হলো—প্রান্তিক, কাসবা, সালান, মঙ্গলদিহি, অবিনাশপুর, পুরন্দরপুর ও সিউড়ি। এর মধ্যে কাসবা, সালান, মঙ্গলদিহি, অবিনাশপুর ও পুরন্দরপুর—এই পাঁচটি সম্পূর্ণ নতুন স্টেশন তৈরি করা হবে। এছাড়া এই লেভেল ক্রসিং-মুক্ত রেলপথে ১১টি মেজর ব্রিজ, ৪২টি মাইনর ব্রিজ, ২টি আরওবি (ROB) এবং ১৮টি আরইউবি (RUB) থাকবে, যা প্রায় ১০টি গ্রাম পঞ্চায়েত ও ৪০টি গ্রামকে জুড়বে।
সিউড়ি–নালা নতুন রেললাইন ও বক্রেশ্বর সংযোগ: অন্যদিকে, বীরভূম ও ঝাড়খণ্ডের জামতাড়া জেলার মধ্যে প্রায় ৭৩ কিলোমিটার বিস্তৃত হতে চলেছে সিউড়ি–নালা নতুন রেললাইন প্রকল্পটি। রাজনগর ও পবিত্র বক্রেশ্বর ধাম হয়ে এই রেলপথ সিউড়ি ও নালার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করবে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেই এই প্রকল্পের ফাইনাল লোকেশন সার্ভের (FLS) জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এই রুটে সিউড়ি, বক্রেশ্বর ধাম, রাজনগর ও নালা-সহ মোট সাতটি স্টেশন থাকার প্রস্তাব রয়েছে। এই রেলপথ চালু হলে একদিকে যেমন বক্রেশ্বর ধামে দেশ-বিদেশ থেকে আসা তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের যাতায়াত সহজ হবে, তেমনই পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের মধ্যে আন্তঃরাজ্য বাণিজ্যিক ও যাতায়াতের পথও সুদৃঢ় হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই করিডর আগামী দিনে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।