রেস্তোরাঁর খাবারে ফাঙ্গাস ধরা চিকেন পকোড়া ও পচা মাংস! এসডিও-র আকস্মিক হানায় খাস সল্টলেকে চাঞ্চল্য

বাইরে থেকে জাঁকজমকপূর্ণ নামী রেস্তোরাঁ, অথচ রান্নাঘরের অন্দরের ছবিটা কতটা ভয়ঙ্কর, তা সম্প্রতি এক আকস্মিক অভিযানে প্রকাশ্যে এল। সল্টলেকের একাধিক রেস্তোরাঁয় মহকুমা শাসক (SDO) এবং এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ (EB)-এর আধিকারিকদের যৌথ হানায় উদ্ধার হলো পচা মাংস ও ফাঙ্গাস ধরা খাবার। শুধু তাই নয়, কলকাতার ট্যাংরার চায়না টাউনের একটি বিখ্যাত রেস্তোরাঁ থেকেও শত শত কেজি পচা মাংস ও মাছ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

সল্টলেকে এসডিও ও ইবি-র অভিযান: খাবারের গুণগত মান এবং মাছ, মাংস ও সবজি কতদিন ধরে মজুত রাখা হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতেই সল্টলেকের বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় হানা দেন আধিকারিকরা। অভিযান চলাকালীন বেশ কিছু খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু রান্নাঘরে ঢুকতেই আধিকারিকদের চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায়। কাস্টমারদের দ্রুত খাবার পরিবেশন করার জন্য আগে থেকেই চিকেন পকোড়ার মতো ফাস্ট ফুড ভেজে মজুত করে রাখা হয়েছিল, যার মধ্যে ইতিমধ্যে ফাঙ্গাস বা ছত্রাক জন্মে গিয়েছিল। এই ভয়াবহ চিত্র দেখে ক্ষুব্ধ আধিকারিকরা একটি রেস্তোরাঁকে পাঁচ দিন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।

ট্যাংরার চায়না টাউনেও কড়া পদক্ষেপ: অন্যদিকে, কলকাতার ট্যাংরার একটি নামী রেস্তোরাঁয় হানা দেয় কলকাতা পুরসভার খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ, স্বাস্থ্য দফতর এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের যৌথ দল। রেস্তোরাঁর ফ্রিজ খুলতেই বেরিয়ে আসে প্রায় ৫০০ কেজি পচা মুরগির মাংস এবং চিংড়ি মাছ! এই বিশাল পরিমাণ মাংস ও মাছ কতদিন ধরে মজুত ছিল, তার কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ। এরপরই প্রগতি ময়দান থানার সহায়তায় সমস্ত পচা মাংস ও মাছ বাজেয়াপ্ত করে পুরসভা। ভিডিও রেকর্ডিং সম্পন্ন করার পর ওই সমস্ত ক্ষতিকারক খাদ্যদ্রব্য ধাপায় নিয়ে গিয়ে সম্পূর্ণ নষ্ট করে ফেলা হবে বলে জানানো হয়েছে।

বাইরের এই চাকচিক্যের আড়ালে চলা অনিয়ম এবং মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে এই ধরনের ছিনিমিনি খেলা রুখতে প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *