‘গিরগিটি, লুঠেরার দল’! ক্যামাক স্ট্রিট নিয়ে মমতার তোপ, পাল্টা নিশানায় বিজেপি

ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ড ঘিরে ফের উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের উপরে বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যেই এবার ওই ভবনের একাংশ দখলের অভিযোগ সামনে এসেছে। ভবন মালিকের দাবি, ২০২০ সালে ৯ নম্বর ক্যামাক স্ট্রিটের বাড়ির সঙ্গে তৃণমূল যুব কংগ্রেসের একটি চুক্তি হয়েছিল। সেই চুক্তিতে বর্তমানে জেলবন্দি তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তী সই করেছিলেন বলে দাবি।

অভিযোগ, লিজে নির্ধারিত শর্তগুলি মানা হয়নি। বাড়ির মালিকের তরফে বারবার কমপ্লিশন সার্টিফিকেট বা CC-এর জন্য বলা হলেও তা করা হয়নি বলে দাবি আইনজীবীর। এরপর প্রভাব খাটিয়ে জোর করে ভবনের দুটি ফ্লোর দখল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এই ঘটনাকে ঘিরেই সরব হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, কলকাতার বুকে মধ্যরাতে পুলিশের নাকের ডগায় ‘গিরগিটি’, ‘লুঠেরার দল’ এবং ‘অর্ধশিক্ষিতের দল’ তাণ্ডব চালিয়েছে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, গ্রাম বাংলায় তৃণমূলের প্রায় ৪ হাজার পার্টি অফিস জোর করে দখল করা হয়েছে এবং নথিপত্র-সহ আসবাবও লুঠ করা হয়েছে।

মমতার বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার। তাঁর দাবি, গত ১৫ বছরে পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ থেকে মানুষের নজর ঘোরাতেই বিজেপি ও বিজেপির বিধায়কদের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

দেবজিৎ আরও দাবি করেন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর প্রথম ২৩ দিনে ৫৬ জন বিজেপি কর্মী খুন এবং দেড়শোর বেশি মহিলা ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান রাজনৈতিক বক্তব্যগুলি ‘সিলেকটিভ প্রপাগান্ডা’। পাশাপাশি তিনি বলেন, আইন আইনের পথেই চলবে এবং রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল-বিজেপির এই চাপানউতোরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *