‘দাদা, ভাল করে করতে হবে,’ মহানায়কের জন্ম শতবর্ষে শুভেন্দুকে কি বললেন দেব?

মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে শহরজুড়ে শুরু হয়েছে চার দিনের বর্ণাঢ্য উৎসব। রাজ্য সরকার ও টলিউড ইন্ডাস্ট্রির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই মেগা উদযাপনের সূচনা করতে বৃহস্পতিবার সকালে টালিগঞ্জে মহানায়কের মূর্তিতে মাল্যদান করেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রবীণ থেকে নবীন— টলিউডের প্রায় সমস্ত তারকার উপস্থিতিতে তিলোত্তমার প্রাঙ্গণ হয়ে উঠেছিল চাঁদের হাট।
এদিনের অনুষ্ঠানে রঞ্জিত মল্লিক, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, দেব, জিৎ থেকে শুরু করে পরিচালক গৌতম ঘোষ, সন্দীপ রায় এবং স্থানীয় বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী ও রুদ্রনীল ঘোষরা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী জানান, উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উদযাপন নিয়ে বিদেশ থেকেই তাঁকে ফোন করেছিলেন অভিনেতা দেব। পাশাপাশি অভিনেতা জিৎও তাঁকে উৎসাহিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানেও মহানায়ককে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করার বিষয়টি এদিন বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি।
চারদিনের এলাহি আয়োজন ও মেগা পরিকল্পনা
জন্মশতবর্ষের এই চারদিন ধরে কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলেই রবীন্দ্রসদন চত্বর থেকে সেন্ট পলস ক্যাথিড্রাল ও বিড়লা তারামণ্ডল হয়ে গগনেন্দ্র প্রদর্শনশালা পর্যন্ত একটি বর্ণাঢ্য ‘ট্রিবিউট ওয়াক’-এর আয়োজন করা হয়। যেখানে চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, লোকশিল্পীদের পাশাপাশি মহানায়কের পরিবারের সদস্যরাও পা মেলাচ্ছেন। সন্ধ্যায় একতারা মুক্তমঞ্চে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও কেক কেটে অনুষ্ঠান শুরুর পাশাপাশি মহানায়কের জীবন ও কাজের ওপর একটি প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়।
আগামী শুক্রবার নিউটাউনে ‘উত্তমকুমার ফিল্ম সেন্টার’-এর শিলান্যাস করবেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি শুক্রবার বিকেলে নন্দন-১-এ সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় ক্লাসিক সিনেমা ‘নায়ক’ প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে বিশেষ ‘উত্তমকুমার ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’। একই দিনে ভারতীয় ডাক বিভাগের পক্ষ থেকে মহানায়কের স্মরণে বিশেষ কভার ও ডাকটিকিট প্রকাশ করা হবে। মাধবী মুখোপাধ্যায়, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়, মিঠুন চক্রবর্তী ও দীপঙ্কর দে-র মতো প্রবীণ অভিনেতা-অভিনেত্রীদের হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেবেন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের বিশিষ্ট জনেরা।
শনিবার শিশির মঞ্চে ‘নায়িকাদের চোখে উত্তমকুমার’ এবং ‘অভিনেতা উত্তমকুমার’ শীর্ষক দুটি বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি রবিবার চলচ্চিত্র শিল্পীদের নাচ, গান ও অভিনয়ের মাধ্যমে মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানানোর নানা কর্মসূচি রয়েছে। শহরের বিভিন্ন রাস্তায় উত্তম কুমারের সিনেমার নানা দৃশ্য ও ছবি দিয়ে সাজানো গাড়ি ঘোরানোর পাশাপাশি বিজলি সিনেমা হলের সামনে বিশেষ কাটআউট বসানো হয়েছে। রাধা স্টুডিও সহ একাধিক প্রেক্ষাগৃহে মহানায়কের জনপ্রিয় সিনেমাগুলি প্রদর্শিত হবে, যা পুজো শুরুর আগেই শহরবাসীকে নস্ট্যালজিয়ায় ভাসিয়ে দিয়েছে।