“৫৫০ কেজির বেশি পচা মাংস, ছত্রাক বসা চিকেন!”-উৎসবের মুখে খাবারের মান নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য

২০১৮ সালের সেই কুখ্যাত ভাগাড় কাণ্ডের ভয়াবহ স্মৃতি ফের তাড়া করতে শুরু করেছে রাজ্যবাসীকে। সেবার মৃত পশুর পচা মাংস রাসায়নিক দিয়ে হোটেল ও রেস্তোরাঁয় সাপ্লাই করার যে চক্র ফাঁস হয়েছিল, ঠিক পুজোর মুখে এসে যেন তারই পুনরাবৃত্তি ঘটল পশ্চিমবঙ্গে। কলকাতা সহ জেলার একাধিক নামী রেস্তোরাঁ, মল এবং ফুডকোর্টে হানা দিয়ে কেজি কেজি পচা মাংস, মাছ ও মেয়াদোত্তীর্ণ সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।

ট্যাংরা থেকে মধ্যমগ্রাম: কোথায় কী মিলল?

খাদ্য দফতর, পুরসভা এবং এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের যৌথ উদ্যোগে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একযোগে অভিযান চালানো হয়। আর তাতেই বেরিয়ে আসে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য:

  • ট্যাংরার চাইনিজ রেস্তোরাঁ: কলকাতার চায়না টাউনের নামী রেস্তোরাঁ ‘বিগ বস’-এ অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫০০ কেজি পচা মাছ ও মাংস বাজেয়াপ্ত করে কলকাতা পুরসভা। কোনোরকম উৎপাদনের তারিখ বা লেবেল ছাড়াই ওই খাবারগুলি মজুত করা হয়েছিল। পরে সেগুলি ধাপায় নিয়ে গিয়ে নষ্ট করা হয়।

  • সল্টলেক সেক্টর ফাইভ: আইটি হাবের আরডিবি বিল্ডিংয়ের পাশের একটি রেস্তোরাঁর স্টোররুমে কাঁচা পচা মাংসের স্তূপ দেখতে পান আধিকারিকরা। তীব্র দুর্গন্ধযুক্ত ওই মাংসের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

  • মধ্যমগ্রাম স্টার মল: যশোর রোডের ধاره ওই শপিং মলের ফুডকোর্টে হানা দিয়ে ছাতা ধরা পচা মাংস ও মেয়াদোত্তীর্ণ পানীয় জল দেখে হতবাক হয়ে যান খাদ্য দফতরের অফিসাররা। ঘটনাস্থলেই ওই ব্যবসায়ীর লাইসেন্স বাতিল করা হয়।

  • বাদুড়িয়া: যেখান থেকে অতীতে ভাগাড় কাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছিল, সেই বাদুড়িয়ার একটি নামী হোটে ছেলেও প্রায় ৪০ কেজি পচা চিকেন ও খাসির মাংস উদ্ধার হয়েছে। হোটেলটিকে ইতিমধ্যেই শোকজ নোটিস ধরানো হয়েছে।

উৎসবের মরশুমের ঠিক আগে সাধারণ মানুষের পাতে এভাবে পচা ও ক্ষতিকারক খাবার তুলে দেওয়ার এই চক্র প্রকাশ্যে আসায় চরম ক্ষুব্ধ ক্রেতারা। প্রশাসনের এই ধারাবাহিক তল্লাশি অভিযান আগামী দিনে আরও কড়া রূপ নিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *