‘সুড়ঙ্গ ছেড়ে বেরোতে নিষেধ করেছিলেন…!’ হড়পা বানের মাঝেই কর্মীদের ফেলে চম্পট দেয় চিনা বস!

ত্রিশূলিতে ভয়াবহ হড়পা বান আছড়ে পড়ার সময়ে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে কাজ করছিলেন বহু শ্রমিক। প্রবল জলোস্রোতের বিকট আওয়াজ শুনেই বিপদের আঁচ পেয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু ঘটনাস্থলে উপস্থিত চিনা সুপারভাইজ়ারের অনুমতি না মেলায় তাঁরা সুড়ঙ্গ ছেড়ে বাইরে বেরোতে পারেননি। শুধু তা-ই নয়, শ্রমিকদের বাঁচানোর কোনো রকম চেষ্টাই ওই চিনা নাগরিক করেননি বলে অভিযোগ। উল্টে চরম বিপদের সুযোগ বুঝে তিনি নিজেই সুড়ঙ্গ ছেড়ে পালিয়ে যান। ত্রিশূলির সেই ভয়াবহ সুড়ঙ্গ থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা রাজ ছেত্রী নামে এক শ্রমিকের বক্তব্যে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
চিনের ‘পাওয়ার চায়না কর্পোরেশন’-এর বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
প্রখ্যাত সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ত্রিশূলি ৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে চিনের বহুজাতিক সংস্থা ‘পাওয়ার চায়না কর্পোরেশন’। বেঁচে ফেরা শ্রমিক রাজ ছেত্রী জানিয়েছেন, তিনি ওই প্রকল্পের অন্তর্গত ৩ নম্বর সুড়ঙ্গে কর্মরত ছিলেন। সেই সুড়ঙ্গে সেই মুহূর্তে অন্তত ২৬৫ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন।
ঘটনার ভয়াবহতা বর্ণনা করে রাজ বলেন, “হড়পা বান আছড়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সুড়ঙ্গের ভেতর জল ও কাদা ঢুকতে শুরু করে। সেই সময়ে আমরা চিনা সুপারভাইজ়ারকে অনুরোধ করেছিলাম আমাদের অবিলম্বে বেরোনোর অনুমতি দেওয়ার জন্য। কিন্তু তিনি উল্টে বলেন, ‘আমি বাইরেটা দেখে আসছি।’ এই কথা বলেই তিনি সুড়ঙ্গ থেকে চম্পট দেন।”
জঙ্গলে পালিয়ে বেঁচে থাকা ও নিখোঁজের আতঙ্ক
রাজের দাবি, জল-কাদার প্রবল স্রোতে সুড়ঙ্গের ভেতরে থাকা বহু শ্রমিকই চোখের পলকে ভেসে যান। এখনও সুড়ঙ্গের বিভিন্ন অংশে বহু শ্রমিকের মরদেহ আটকে পড়ে রয়েছে বলে তাঁর আশঙ্কা। তিনি জানান, মৃত্যুর মুখ থেকে কোনোমতে তাঁরা মাত্র চারজন শ্রমিক পালাতে সক্ষম হয়েছিলেন। তবে সেই চারজনের মধ্যে দুজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
ভূমিকম্প ও হড়পা বানের জেরে মোবাইল নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় বেঁচে যাওয়া শ্রমিকদের কয়েক দিন ধরে পাশের জঙ্গলের মধ্যেই আশ্রয় নিতে হয়। গাছের তলায় ঘুমিয়ে দিন কাটিয়ে পরে কোনোমতে নেটওয়ার্ক ফিরে পেলে তাঁরা বাড়িতে ফোন করে নিজেদের বেঁচে থাকার খবর জানান। রাজের আরও অভিযোগ, ওই প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং ধস-হড়পা বানের সুনির্দিষ্ট খবর চিনের সরকারের কাছে আগে থেকেই ছিল। কিন্তু সচেতনতামূলক কোনো সতর্কবার্তা না দেওয়ায় এত বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এদিকে, সুড়ঙ্গে আটকে থাকা অসহায় শ্রমিকদের উদ্ধারকাজে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মারাত্মক গাফিলতি ও উদাসীনতা নিয়ে ইতিমধ্যেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সঙ্গেই যুক্ত এক জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারের স্ত্রী।