রেকর্ড ২৫০ দিন সমুদ্রে কাটিয়ে থাইল্যান্ডের পাতায়ায় নোঙর মার্কিন রণতরীর! ৫ হাজার ক্লান্ত নাবিকের জন্য অপেক্ষা করছে কী?

কোথাও কোনো বন্দরে না থেমে একটানা রেকর্ড ২৫০ দিন সমুদ্রে কাটানোর পর অবশেষে থাইল্যান্ডে নোঙর করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’। এই বিশাল যুদ্ধজাহাজটি থাইল্যান্ডের নোঙর করায় জাহাজের প্রায় পাঁচ হাজার ক্লান্ত নাবিক ও কর্মীরা অবশেষে পেলেন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় দীর্ঘ বিশ্রামের সুযোগ।
পাতায়ার বুকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের ঐতিহাসিক স্মৃতি
জাহাজটি নোঙর করেছে বিখ্যাত সমুদ্রসৈকত-নগরী পাতায়ার কাছাকাছি। এই শহরটি তার বর্ণময় রাত্রিজীবন (নাইটলাইফ) ও যৌন পর্যটনের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। তবে এর নেপথ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য জড়িয়ে রয়েছে শক্তিশালী ঐতিহাসিক স্মৃতি। ক্লান্ত মার্কিন নাবিকরা যখন এই শহরের বার ও রেস্তোরাঁগুলোতে প্রবেশ করছেন, তখন তারা আক্ষরিক অর্থেই সেই ঐতিহাসিক পথেই পা রাখছেন, যেখান দিয়ে একসময় ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় বিশ্রাম ও অবকাশ যাপনের (R&R) জন্য আসা লক্ষাধিক মার্কিন সেনা হেঁটেছিলেন। মূলত এই মার্কিন সেনাদের হাত ধরেই একসময়ের শান্ত এক জেলেপল্লি ধাপে ধাপে বিশ্বের অন্যতম পরিচিত ও ব্যস্ততম পার্টি শহরে রূপ নিয়েছিল।
বদলে গেছে পাতায়ার সেই চিরচেনা রূপ
তবে বর্তমান পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। আজ সমুদ্রসৈকতের দিকে নেমে যাওয়া নিয়ন আলোয় আলোকিত গলিগুলো স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি শান্ত। শহরের বিখ্যাত ‘ওয়াকিং স্ট্রিট’-এর বারগুলোর দেওয়ালে এখনও গ্রাহকদের ভেতরে টানার আকর্ষণে পোল ড্যান্স করা নারীদের ভিডিও দেখানো হচ্ছে। কিন্তু সেখানে গ্রাহকদের ভিড় অত্যন্ত কম। বর্তমান সময়ে যারা আসছেন, তাঁদের বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা পারিবারিক পর্যটক, যাঁরা গো-গো বারের চেয়ে তুর্কি আইসক্রিম বিক্রেতার প্রতিই বেশি আগ্রহী। মূলত চলমান নানা আন্তর্জাতিক সংঘাত ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জেরে পর্যটন ও ভোক্তা ব্যয়ে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে, যার সরাসরি কোপ পড়েছে পাতায়ার স্থানীয় ব্যবসাগুলির ওপর।