জেল যেন মারণ রোগের আতঙ্কের কুঠরি! মাত্র চার মাসে HIV আক্রান্ত শত শত কয়েদি, নড়েচড়ে বসল প্রশাসন

অসমের সংশোধনাগারগুলিতে হু হু করে বাড়ছে মারণ রোগ এইচআইভি (HIV) সংক্রমণের হার। গত চার মাসের পরিসংখ্যান বলছে, রাজ্যের বিভিন্ন জেলের অন্দরে মোট ২২৬ জন কয়েদির শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি মিলেছে। কারাগারের চার দেওয়ালের মধ্যে এত বিপুল সংখ্যক বন্দির এইচআইভি আক্রান্ত হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসতেই রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে। গোটা পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বিচার করে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।

সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে শ্রীভূমি জেলা কারাগার থেকে। ওই একটিমাত্র জেলেই ১১ জন কয়েদি এইচআইভি পজিটিভ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন, যার মধ্যে একজন মহিলা বন্দিও রয়েছেন। জেল সূত্রে জানা গেছে, ৪৪৫ জন কয়েদি ঠাসা ওই সংশোধনাগারের ধারণক্ষমতা আসলে মাত্র ১৮৭ জন। অর্থাৎ অনুমোদিত সংখ্যার চেয়ে বহু গুণ বেশি বন্দি গাদাগাদি করে থাকার ফলে ঝুঁকি যে আরও বাড়ছে, তা বলাই বাহুল্য। জেল কর্তৃপক্ষের দাবি, সংক্রমিত কয়েদিদের প্রায় সকলের বিরুদ্ধেই মাদক সংক্রান্ত এনডিপিএস (NDPS) আইনে মামলা রয়েছে। যদিও নিয়মিত কাউন্সেলিং এবং এইডস কন্ট্রোল কমিটির নজরদারি সত্ত্বেও এই সংক্রমণ রোখা যায়নি। শ্রীভূমি জেলের ইনচার্জ ম্যাজিস্ট্রেট অন্বেষা খেরশা জানিয়েছেন, আক্রান্তদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ইতিমধ্যে শিলচর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব উপলব্ধি করে নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, সরকার পুরো বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে দেখছে এবং গুয়াহাটি হাইকোর্টও গোটা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। সমস্ত জেলের অন্দরে কয়েদিদের নিয়মিত এইচআইভি পরীক্ষার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি আক্রান্তরা যাতে যথাযথ চিকিৎসা পান, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী অশোক সিঙ্ঘল জানান, গোটা অসমজুড়ে বর্তমানে প্রায় ৩৩ হাজার এইচআইভি আক্রান্ত রোগী রয়েছেন। এপ্রিল থেকে জুলাই মাসের এই চার মাসে রাজ্যের ৩১টি জেলের বন্দিদের মধ্যে যেভাবে এই সংক্রমণ ছড়িয়েছে, তাতে জেলগুলির অন্দরের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *