আইটিআর ফাইল করতে ভুলে গেছেন? ৩১ শে আগস্ট পার হলেও এই উপায়ে বাঁচবে টাকা, বড় সুযোগ দিল আয়কর বিভাগ!

২০২৬-২৭ মূল্যায়ন বর্ষের জন্য আয়কর রিটার্ন (ITR) দাখিলের নির্ধারিত ৩১শে আগস্টের সময়সীমা ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। ব্যস্ত জীবনযাত্রা কিংবা নানা প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে বহু মানুষই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাঁদের রিটার্ন ফাইল করতে পারেননি। সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় বড় অঙ্কের জরিমানা ও ক্ষতির আশঙ্কায় অনেকেই এখন উদ্বেগে রয়েছেন। তবে করদাতাদের স্বস্তি দিয়ে আয়কর বিভাগ পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, নির্দিষ্ট তারিখ পার হয়ে গেলেও আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এখনও আইটিআর দাখিল করার সুযোগ রয়েছে।

বিলম্বিত আইটিআর দাখিলের সুযোগ
যাঁরা ৩১শে আগস্টের মধ্যে আইটিআর দাখিল করতে পারেননি, তাঁরা আগামী ২০২৬ সালের ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত বিলম্বিত আইটিআর (Belated ITR) ফাইল করতে পারবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেরিতে রিটার্ন দাখিল করলে বকেয়া করের ওপর নির্দিষ্ট হারে বিলম্ব ফি ও সুদ দিতে হতে পারে। তবে একটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি, আয়কর বিভাগ যদি ৩১শে ডিসেম্বরের আগেই আপনার মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফেলে, তবে আপনি আর এই সুযোগ পাবেন না।

জরিমানা ও অন্যান্য ক্ষতির হিসাব
দেরিতে রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণ নির্ভর করে করদাতার বার্ষিক আয়ের ওপর।

বার্ষিক আয় ৫ লক্ষ টাকার কম হলে ১,০০০ টাকা বিলম্ব ফি দিতে হবে।

বার্ষিক আয় ৫ লক্ষ টাকার বেশি হলে এই বিলম্ব ফি ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

এছাড়াও বকেয়া করের ওপর প্রতি মাসে ১ শতাংশ হারে সুদ ধার্য করা হবে।

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিটার্ন ফাইল না করলে শুধু জোরাল জরিমানা নয়, ব্যবসায়িক বা মূলধনী ক্ষতি পরবর্তী বছরগুলিতে ক্যারি ফরওয়ার্ড বা স্থানান্তর করার সুবিধা হাতছাড়া হয়। পাশাপাশি, নতুন কর ব্যবস্থার অধীনে রিটার্ন দাখিল করতে হওয়ায় পুরনো ব্যবস্থার অনেক কর ছাড়ের সুবিধাও বাতিল হয়ে যায়। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, বিলম্বিত আইটিআর-এর মাধ্যমেও করদাতারা তাঁদের রিফান্ড দাবি করতে পারবেন, যদিও এক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে।

সংশোধিত রিটার্ন ও বিশেষ ছাড়ের আবেদন
তাড়াহুড়োয় রিটার্ন দাখিল করার সময় অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাদ পড়ে যায়। এই ধরনের ভুল সংশোধনের জন্য সংশোধিত আইটিআর (Revised ITR) দাখিলের সুযোগ দেয় আয়কর বিভাগ। ২০২৬-২৭ মূল্যায়ন বর্ষের জন্য আগামী ৩১ মার্চ, ২০২৭ পর্যন্ত এই সংশোধিত রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। তবে ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৬-এর পর জমা দিলে অতিরিক্ত ফি প্রযোজ্য হতে পারে।

এমনকি কেউ যদি ২০২৬ সালের ৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যেও রিটার্ন দাখিল করতে ব্যর্থ হন, সেক্ষেত্রে আয়কর বিভাগের কাছে বিলম্ব মার্জনা করার জন্য আবেদন করার শেষ সুযোগ থাকে। তবে এই বিশেষ সুবিধা পাওয়ার জন্য একটি অত্যন্ত বৈধ ও শক্তিশালী কারণ দর্শাতে হবে। রিফান্ড দাবি বা লোকসান ক্যারিফরওয়ার্ডের মতো গুরুতর ক্ষেত্রেই মূলত এই ছাড় বিবেচনা করা হয়। কর কর্মকর্তারা কারণ দর্শানো সন্তোষজনক মনে না করলে সেই আবেদন বাতিলও হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *