জন্মাষ্টমীতে বাঁকে বিহারী মন্দিরে চরম কড়াকড়ি! মঙ্গলা আরতিতে যোগ দিতে হলে মানতেই হবে এই নিয়মের বেড়াজাল

ভগবান কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী ২০২৬ উপলক্ষে উত্তরপ্রদেশের বৃন্দাবনের ঐতিহাসিক বাঁকে বিহারী মন্দিরে মঙ্গলা আরতির প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগামী ৪ঠা এবং ৫ই সেপ্টেম্বরের মধ্যরাতে, অর্থাৎ রাত ১টা ৪৫ মিনিটে এই বিশেষ মঙ্গলা আরতি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগমের সম্ভাবনায় মন্দির চত্বরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা এবং কড়া প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জারি করা হয়েছে।

প্রশাসনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, এবারের জন্মাষ্টমীতে মঙ্গলা আরতিতে অংশ নেওয়ার জন্য মাত্র ৬০০ জন ভক্তকে মন্দিরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি কর্তৃক বিশেষ পাস বা অনুমতিপত্র ইস্যু করা হয়েছে এবং এই পাস ছাড়া কোনো সাধারণ ভক্তের মন্দির চত্বরে প্রবেশের সুযোগ থাকবে না। এমনকি মন্দিরের সেবায়েত, তাঁদের পৃষ্ঠপোষক এবং সংবাদ সংগ্রহের কাজে যাওয়া সাংবাদিকদের জন্যও আলাদা পাস বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মঙ্গলা আরতি সম্পন্ন হওয়ার পর মন্দিরের মূল দরজা সাধারণ জনগণের দর্শনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে এবং এরপর সারা রাত জুড়ে ভক্তদের সামনে আবির্ভূত থাকবেন ঠাকুর বাঁকে বিহারী। এরপর ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ মন্দিরের দরজা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে নির্ধারিত রুটিন অনুযায়ী পুনরায় দর্শন শুরু হবে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন
গতবারের ভিড় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কিছু প্রশ্ন ওঠায় এবারে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনছে প্রশাসন। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির বৈঠকে মঙ্গলা আরতির সময় মন্দিরের অভ্যন্তরে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মীদের উপস্থিতি নিয়ে সেবাইতরা আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁদের আপত্তির কথা মাথায় রেখে কমিটির চেয়ারম্যান অশোক কুমার স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এবারের মঙ্গলা আরতিতে মন্দিরের ভেতরে পুলিশের সংখ্যা সীমিত রাখা হবে। তবে ভক্তদের সুরক্ষা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মন্দির চত্বরের বাইরে এবং সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ নজরদারি ও কঠোর প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ বলবৎ থাকবে।

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বৃন্দাবনে ভক্তদের বিপুল ঢল নামার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের ভিআইপিদের সম্ভাব্য সফর ও নিরাপত্তা দিকগুলিও গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কমিটির সভাপতি স্বয়ং মন্দির চত্বর পরিদর্শন করে গোটা বন্দোবস্ত খতিয়ে দেখেছেন। ওই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ মুকেশ মিশ্র, সেবায়েত হিমাংশু গোস্বামী, রজত গোস্বামী, শৈলেন্দ্র গোস্বামী, শেঙ্কি গোস্বামী এবং মন্দির ব্যবস্থাপক মুনীশ শর্মা। ভক্তদের ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *