‘নেতানিয়াহুকে ইচ্ছা করে জাগানো হয়নি!’ ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর চাঞ্চল্যকর মন্তব্যে তোলপাড় আন্তর্জাতিক রাজনীতি

২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবরের হামাসের বিধ্বংসী হামলাকে কেন্দ্র করে ইজরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র বিতর্ক ও উত্তাপ ছড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর স্ত্রী সারা নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার গোলান। সারা দাবি করেছিলেন যে, ওই ভয়াবহ হামলা সম্পর্কে নাকি আগে থেকেই ওয়াকিবহাল ছিলেন বিরোধী নেতা। আর এই মন্তব্যের পরেই ফুঁসে উঠে সারার বিরুদ্ধে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন ইয়ার গোলান।
ইজরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রাক্তন ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ এবং বর্তমান বিরোধী নেতা ইয়ার গোলান স্পষ্ট জানিয়েছেন, সারা নেতানিয়াহু যদি তাঁর এই মিথ্যে দাবির জন্য জনসমক্ষে ক্ষমা না চান, তবে তিনি আদালতের দারস্থ হবেন। মানহানির মামলা ঠুকে তিনি প্রায় ২৫ লক্ষ শেকেল বা প্রায় ৮ লক্ষ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, আইনি লড়াইতে জেতার পর এই পুরো অর্থ তিনি নোভা সঙ্গীত উৎসবের হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের তহবিলে দান করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সারার এই অভিযোগকে একটি “ষড়যন্ত্র” হিসেবে অভিহিত করে গোলান জানিয়েছেন, মূলত জীবন রক্ষাকারীদের ওপর দোষ চাপিয়ে নিজেদের চরম নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায় এড়াতেই এই ধরনের বানোয়াট গল্প ছড়ানো হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবরের হামলার খবর পাওয়া মাত্রই ইয়ার গোলান নিজে দক্ষিণ ইজরায়েলে ছুটে গিয়েছিলেন এবং নোভা উৎসবের কাছে আটকে পড়া সাধারণ মানুষকে উদ্ধারে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নেতানিয়াহুর বিস্ফোরক অভিযোগ
এদিকে বিতর্কের মাঝেই আরও এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তাঁর দাবি, ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর হামলার রাতে ঊর্ধ্বতন সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ইচ্ছাকৃতভাবেই তাঁকে ঘুম থেকে জাগাননি। যদিও ওই হামলা সম্পর্কে আগে থেকেই কিছু গোয়েন্দা সতর্কবার্তা তাঁর কাছে পৌঁছেছিল। নেতানিয়াহুর মতে, তাঁকে যদি সময়মতো খবর দেওয়া হতো, তবে তিনি সঙ্গে সঙ্গে সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকার নির্দেশ দিতেন এবং গাজা সীমান্তে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে এই রক্তক্ষয়ী আক্রমণ প্রতিরোধ করতে পারতেন।
সম্প্রতি একটি ইনস্টাগ্রাম লাইভে এসে ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিরাপত্তা আধিকারিকরা ভালোভাবেই জানতেন যে তাঁকে জাগানো হলে তিনি পুরো সেনাবাহিনীকে অ্যাক্টিভ করে দেবেন। কিন্তু বড় ধরনের সামরিক সংঘাত এড়ানোর মানসিকতা থেকেই নিরাপত্তা নেতৃত্ব হামাসের হামলার সম্ভাবনাকে পুরোপুরি লঘু করে দেখেছিল এবং ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে অন্ধকারে রেখেছিল। তবে পুরো ঘটনাটিকে সরাসরি “বিশ্বাসঘাতকতা” বলতে নারাজ নেতানিয়াহু, তিনি এটিকে ইজরায়েল রাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম “বিশাল সামরিক ব্যর্থতা” হিসেবেই দাগিয়ে দিয়েছেন।
৭ই অক্টোবরের সেই কালো অধ্যায়
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের অতর্কিত এবং নজিরবিহীন হামলায় প্রায় ১,২০০ জন ইজরায়েলি নাগরিক নিহত হয়েছিলেন এবং ২৫১ জনকে বন্দী করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ইজরায়েলের ইতিহাসে এটিকে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় গোয়েন্দা ব্যর্থতা হিসেবে গণ্য করা হয়। এই ঘটনার পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল যে, হামলার সুনির্দিষ্ট আগাম ইঙ্গিত থাকা সত্ত্বেও দেশের শীর্ষ গোয়েন্দা ও সামরিক সংস্থাগুলি কেন তা প্রতিরোধ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হলো। সেই ক্ষত আজও ইজরায়েলের রাজনীতিতে তরতাজা এবং বর্তমান রাজনৈতিক কোন্দল সেই বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে।