বজ্রাঘাত বাজারে! মার্কিন-ইরান যুদ্ধের ডামাডোলে এক মিনিটে ধূলিসাৎ লক্ষ কোটি টাকা, সেনসেক্স নামল ৭০০ পয়েন্ট!

বুধবার সকালে ভারতীয় শেয়ার বাজারের জন্য এক চরম বিপর্যয়কর খবর নিয়ে শুরু হয়েছে লেনদেন। বাজার খোলার প্রথম মিনিটেই বিনিয়োগকারীদের কপালে হাত পড়ে, কারণ সেনসেক্স এক ধাক্কায় প্রায় ৭০০ পয়েন্ট এবং নিফটি ২০০ পয়েন্টের বেশি হুড়মুড়িয়ে নিচে নেমে যায়। এই রক্তক্ষয়ী পতনের নেপথ্যে কোনো দেশীয় অর্থনৈতিক কারণ নেই, বরং আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে আকস্মিক যুদ্ধাবস্থা এবং রাতভর চলা সামরিক হামলা বিশ্বজুড়ে আর্থিক বাজারকে কাঁপিয়ে দিয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, গত রাতে ইরানের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে একাধিক বিমান হামলা চালানো হয়েছে এবং এর জবাবে তেহরানও পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছে। এই আন্তর্জাতিক উত্তেজনার জেরে বিনিয়োগকারীদের আস্থা তলানিতে ঠেকেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে এশিয়ার সমস্ত প্রধান বাজারে।

বাজার খোলার আগেই মিলছিল বিপর্যয়ের সঙ্কেত
সদর্পে লেনদেন শুরু হওয়ার আগেই বাজারে বড় পতনের কালো মেঘ ঘনিয়েছিল। প্রি-ওপেনিং সেশনেই সেনসেক্স ৫৪০ পয়েন্ট কমে ৭৬,৩৯৭.২৪ অঙ্কে নেমে আসে। অন্যদিকে, নিফটিও ২০৩ পয়েন্ট পতন নিয়ে ২৩,৮৫২.০৫-এ লেনদেন শুরু করে। সকাল ৭:৩৮ মিনিটে গিফট নিফটি ফিউচারের চিত্রও ছিল অত্যন্ত নেতিবাচক। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই ভয়াবহ পতনের দিনে সেনসেক্সের ৩০টি প্রধান কোম্পানির মধ্যে কেবল ‘সান ফার্মা’-র শেয়ার সামান্য লাভে মুখ দেখাতে পেরেছে, বাকি সবকটি কোম্পানির শেয়ারের দরপতন হয়েছে।

জ্বালানি বাজারে আগুন ও মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা
এই ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাতারাতি ব্রেন্ট ক্রুড বা অপরিশোধিত তেলের দাম ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯৬.৬ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে বন্ডের ইল্ড বাড়ছে এবং ভবিষ্যতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতসহ উদীয়মান বাজারগুলো থেকে পুঁজি তুলে নিতে পারেন, যা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য এক বিরাট উদ্বেগের বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *