“স্লিপার বাসে নাবালিকাকে গণধর্ষণ!”-১১টি ট্রাফিক চালান সত্ত্বেও কীভাবে ছুটছিল গাড়ি?

দিল্লি-এনসিআরের বেসরকারি স্লিপার বাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। গ্রেটার নয়ডা থেকে দিল্লিগামী একটি চলন্ত বাসে নাবালিকাকে ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ঘটনার তদন্তে নেমে একের পর এক গাফিলতির তথ্য হাতে পেয়েছে পুলিশ। জানা গেছে, অভিযুক্ত বাসটির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ট্রাফিক আইন ভাঙার ১১টি বকেয়া চালান ছিল এবং এর ভেতরের সিসিটিভি ক্যামেরাও পুরোপুরি অকেজো ছিল। প্রায় ৪৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার সময় একাধিক এলাকা পার হলেও কীভাবে এই গাড়িটি নির্বিঘ্নে চলাচল করছিল, তা নিয়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, গত ৪ অগস্ট গ্রেটার নয়ডার পারি চক থেকে ওই কিশোরী বাসে উঠেছিল। এর পর বাসের চালক ও কন্ডাক্টর মিলে তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। প্রায় ৪৭ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করার পর দিল্লির কাশ্মীরি গেট এলাকায় তাকে রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত চালক ও কন্ডাক্টরকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তে আরও জানা গেছে, বাসের ভেতরের সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্ট থাকায় ঘটনার কোনো সরাসরি ফুটেজ পাওয়া যায়নি। এমনকি বাসটির পারমিট সংক্রান্ত নানা নিয়ম ভাঙার ইতিহাসও সামনে এসেছে।

দিল্লি সরকারের কড়া নির্দেশিকা

এই নৃশংস ঘটনার পরই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। দিল্লি সরকার মঙ্গলবার বাসের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে একগুচ্ছ নতুন ও কঠোর নির্দেশিকা জারি করেছে। শুধু স্থানীয় বাস নয়, অন্য রাজ্য থেকে দিল্লিতে প্রবেশকারী সমস্ত আন্তঃরাজ্য বাসের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম কঠোরভাবে প্রযোজ্য হবে বলে স্পষ্ট করা হয়েছে।

নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী:

  • বাসের প্যানিক বাটন এবং ভেহিকল লোকেশন ট্র্যাকিং ডিভাইস (VLTD) সর্বদা সচল রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

  • স্লিপার বাসের বার্থ বা আসন ঢেকে রাখার সমস্ত পর্দা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

  • বাসের জানালায় অনুমোদনহীন কালো ফিল্ম বা টিন্টেড ফিল্ম লাগানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, যাতে ভিতরের দৃশ্যমানতা পরিষ্কার থাকে এবং অপরাধের সুযোগ না থাকে।

  • এই নির্দেশ অমান্য করলে ভারী জরিমানা থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট বাসের পারমিট ও লাইসেন্স বাতিলের মতো কঠোর পদক্ষেপ করা হবে।

কর্মী নিয়োগেও কড়াকড়ি

বাসের যান্ত্রিক সুরক্ষার পাশাপাশি চালক ও কন্ডাক্টরদের ব্যাকগ্রাউন্ড ভেরিফিকেশন বা অতীত রেকর্ড যাচাইয়ের বিষয়টিও জোরদার করার কথা বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সিগুলি অভিযুক্তদের নিয়োগের আগে যথাযথভাবে তথ্য যাচাই করেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিশেষে, প্রশাসনের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো— এই সমস্ত নতুন নিরাপত্তা বিধি কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবে কঠোরভাবে কার্যকর করা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *