তরমুজ কাটার নিয়ম নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড বিগ বস বাংলায়, হাউহাউ করে কেঁদে ফেললেন জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর!

স্টার জলসার পর্দায় সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঞ্চালনায় শুরু হওয়া ‘বিগ বস বাংলা’ ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে দারুণ সাড়া ফেলেছে। ৩০ অগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই রিয়েলিটি শোয়ে প্রথম থেকেই তারকারা নিজেদের আসল রূপ দেখাতে শুরু করেছেন। ভরত কল, মনামী ঘোষ, সোনামণি সাহা এবং দুর্নিবার সাহার মতো চেনা মুখেরা এই ঘরে খেলতে নেমেছেন। তবে বিনোদনের পাশাপাশি ঘরে এখন তরজা এবং উত্তেজনাই প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে।

গত কয়েক দিনে ঘরের তাপমাত্রা বেশ চড়েছে। শুরুতে ক্যাপ্টেন ভরত কল ও তনুশ্রী রায় দাসের মধ্যে বড় ধরনের ঝামেলা হয়েছিল। সেই অশান্তির রেশ কাটতে না কাটতেই রান্নাঘরে ফল কাটাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধে। জয়িতা যখন তরমুজ কাটছিলেন, তখন নেটদুনিয়ার পরিচিত মুখ ‘লাফটারসেন’ অর্থাৎ নিরঞ্জন মণ্ডল তাঁর কাটার ধরন নিয়ে আপত্তি জানান। স্বাস্থ্যবিধি বা হাইজিন মেনে তরমুজ কাটার কথা বলায় দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।

এই ঘটনার পর জয়িতা অভিনেত্রী মনামী ঘোষের কাছে গিয়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, তিনিও মার্জিত পরিবেশ থেকে এসেছেন এবং নিরঞ্জনের কথা তাঁর গায়ে লেগেছে। এমনকী নিরঞ্জনকে নিয়ে কিছুটা ব্যঙ্গাত্মক শারীরিক অঙ্গভঙ্গিও করেন তিনি। তবে মনামী বিষয়টি বাড়তে দেননি এবং সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করে জানান যে কাউকে এভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা উচিত নয়। পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আগেই নিরঞ্জন নিজের ভুল বুঝতে পারেন। তিনি নিজেই গিয়ে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে জয়িতার কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন এবং জানান কাউকে আঘাত করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। জয়িতাও পরে নিজের ভুল স্বীকার করে নেন।

ঝামেলা মিটে গেলেও শোয়ের নিয়ম অনুযায়ী আসল নাটক শুরু হয় ডাগআউট রুমের খেলা নিয়ে। ঘরের নিয়ম মেনেই মোট ছয়জনকে ডাগআউটে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ক্যাপ্টেন ভরত কল সরাসরি দীপেন্দু বিশ্বাস, দুর্নিবার সাহা, ঝিলম গুপ্ত এবং তনুশ্রী রায় দাসকে ডাগআউটে পাঠান। এরপর বাকি সদস্যদের গোপন ভোটে আরও দু’জন—সোহিনী পাল এবং জয়িতা—ডাগআউটে চলে যান।

জয়িতা ডাগআউটে চলে যাওয়ার পরই মারাত্মক আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন নিরঞ্জন। তিনি বিগ বসকে একান্তে নিজের খারাপ লাগার কথা জানাচ্ছিলেন। সেই সময় সেখানে ঝিলম গুপ্ত আসতেই নিজেকে আর সামলাতে পারেননি তিনি। ঝিলমের সামনেই হাউহাউ করে কেঁদে ফেলেন নিরঞ্জন। ঝিলম তাঁকে কাছে টেনে নিয়ে শান্ত করেন। চোখের জল ফেলতে ফেলতে নিরঞ্জন তাঁর আসল ভয়ের কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, এই কঠিন খেলায় টিকে থাকতে গিয়ে ভবিষ্যতে হয়তো নিজের কাছের মানুষের বিরুদ্ধেই তাঁকে ভোট দিতে হবে কিংবা দাঁড়াতে হবে, এই আশঙ্কাই তাঁকে গ্রাস করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *