ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্টে ভরাডুবি! দল থেকে একসঙ্গে সাত তারকাকে ছেঁটে ফেলে বড় পদক্ষেপ পিসিবির

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চলমান টেস্ট সিরিজে টানা দুই ম্যাচে হারের পরেই পাকিস্তান ক্রিকেটে নজিরবিহীন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার বড়সড় রদবদলের পথে হাঁটল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। ইংল্যান্ড সফরের টেস্ট স্কোয়াড থেকে একযোগে সাতজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। দল থেকে বাদ পড়া এই তালিকায় নাম রয়েছে মহম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক, সলমন আগা, আলি উসমান, আমের জামাল, আওয়াইস জাফর এবং খুররম শাহজাদের মতো পরিচিত মুখেরা।
দলের এই ব্যাপক পরিবর্তনের ফলে স্কোয়াডে সুযোগ পেয়েছেন পাঁচজন আনক্যাপড তরুণ ক্রিকেটার—আরাফাত মিনহাস, মহম্মদ ইমরান জুনিয়র, সাদ বেগ, মহম্মদ ইমরান রন্ধাওয়া এবং রাজাউল্লাহ। পাশাপাশি দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে সাইম আয়ুব ও আবদুল্লাহ ফাজালকে, যাঁদের দুজনের মিলিত টেস্ট অভিজ্ঞতা মাত্র ১০টি ম্যাচের।
পিসিবির এই আকস্মিক পদক্ষেপে দলের অন্দরমহলে চরম ধাক্কা লেগেছে। অভ্যন্তরীণ সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত সোমবার বিকেলে যখন ক্রিকেটাররা বিশ্রামে ছিলেন, সে সময় বন্ধু ও আত্মীয়দের ফোন পেয়ে তাঁরা গোটা বিষয়টি জানতে পারেন। আচমকা এই ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তে অনেকেই হতবাক হয়ে যান। দলের এক সদস্য তো প্রথমে এই খবরটিকে ভুয়ো বলেই উড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং নিজেকে অন্যায়ভাবে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
শুধু দলবদলই নয়, নির্বাচকদের ভূমিকা নিয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছে পিসিবি। মহম্মদ রিজওয়ান ও ইমাম-উল-হককে দলে অন্তর্ভুক্ত করার যৌক্তিকতা নিয়ে নির্বাচকদের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা তলব করেছে বোর্ড। সোমবারই নির্বাচকদের নোটিস পাঠিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচনের প্রক্রিয়া ও তার কারণ জানাতে বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি কোচিং স্টাফেও পরিবর্তন এনে পাকিস্তানের সাদা বলের দলের হেড কোচ মাইক হেসন এবং বোলিং কোচ অ্যাশলি নফকে টেস্ট দলের কোচিং স্টাফের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
এই চরম সংকটের মাঝে দলের প্রাক্তন অধিনায়ক মিসবা-উল-হক জাতীয় নির্বাচক কমিটি থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। টেস্ট স্কোয়াড ও কোচিং স্টাফে পিসিবির একতরফা পরিবর্তনের প্রতিবাদেই তিনি এই পথ বেছে নিয়েছেন বলে জানা গেছে। শুধু তাই নয়, লাহোরের ন্যাশনাল ক্রিকেট অ্যাকাডেমির ব্যাটিং কনসালট্যান্টের দায়িত্ব থেকেও তিনি সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। যদিও পিসিবি এখনও তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেনি। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তৃতীয় টেস্ট ম্যাচের ঠিক আগে পিসিবির এই কঠোর পদক্ষেপ এবং অন্দরমহলের এই কোন্দল পাক ক্রিকেটের ভবিষ্যৎকে আরও গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।