৫ ঘণ্টার ম্যারাথন জেরা শেষ, থানা থেকে বেরিয়েই শুভেন্দুর বিরুদ্ধে কী বললেন অভিষেক?

শেক্সপিয়র সরণী থানা থেকে ৫ ঘণ্টারও বেশি সময় পর জেরা সেরে বাইরে এলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের পার্টি অফিসে পুলিশের সঙ্গে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনায় তাঁকে তলব করেছিল পুলিশ। থানা থেকে বেরিয়েই মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ করেন তিনি। অভিষেকের দাবি, তৃণমূল কর্মীদের উপর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অত্যাচার চালানো হচ্ছে এবং নানা অজুহাতে তাঁকে ও তাঁর দলকে হেনস্তা করার চেষ্টা চলছে। পুলিশ সম্পূর্ণভাবে দলদাসে পরিণত হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।

ফায়ার অডিট নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ

রাজ্য সরকারের নিষ্ক্রিয়তা তুলে ধরে ফায়ার অডিট নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন অভিষেক। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের তৎপরতা যদি আগে থাকত, তবে তারাপীঠ বা মির্জা গালিব স্ট্রিটের মতো মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো যেত। আলিপুরের প্রশাসনিক ভবনে আগুন লেগে বহু ব্যালট ও কন্ট্রোল ইউনিট পুড়ে যাওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সেই সময় কেন ফায়ার অডিট করা হয়নি? তাঁর কটাক্ষ, দমকল যদি আগে এমন তৎপরতা দেখাত, তবে বহু মানুষের প্রাণহানি রোধ করা সম্ভব হতো।

মিথ্যা মামলা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগের পাল্টা জবাব

তৃণমূল কর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করে অভিষেক জানান, নিয়ম না মেনে বিনা নোটিসে কর্মীদের গ্রেফতার ও পুলিশি হেফাজতে নির্যাতন চালানো হচ্ছে। মহিলা পুলিশকর্মীদের হেনস্থা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে বলে উড়িয়ে দিয়ে তিনি দাবি করেন, পুলিশের পক্ষ থেকেই কর্মীদের সিঁড়ি থেকে টেনেহিঁচড়ে নামানো হয়েছিল এবং সেই সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ বা ভিডিও তাঁদের কাছে সুরক্ষিত রয়েছে। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের কার্যালয়ের সামনে একটি বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও পুরকর্মীদের সঙ্গে তৃণমূল কর্মীদের বচসা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলার ভিত্তিতেই এদিন তাঁকে তলব করেছিল শেক্সপিয়র সরণী থানা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *