৭ বছর পর সন্দেশখালি ট্রিপল মার্ডার মামলায় বিরাট মোড়! সিবিআইয়ের জালে শাহজাহান বাহিনীর আরও ৬ জন

সাত বছর পর সন্দেশখালির বহুচর্চিত রক্তক্ষয়ী রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও তিন বিজেপি কর্মী খুনের মামলায় অত্যন্ত বড়সড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। সিবিআই দফতরে ডেকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর তৃণমূলের ছয় জন সক্রিয় কর্মীকে গ্রেফতার করেছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। ধৃতদের নাম স্বপন দাস, বাবলু মোল্লা, জহর মীর, মোমিন মীর, স্বপন মণ্ডল এবং ভানুময় মণ্ডল। এই ছ’জনের গ্রেফতারির ফলে হাইভোল্টেজ এই ট্রিপল মার্ডার মামলায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৬-তে। দীর্ঘ সাত বছর পর সিবিআইয়ের এই জোরদার পদক্ষেপে ভাঙিপাড়া এলাকায় ফের নতুন করে তীব্র রাজনৈতিক আলোড়ন তৈরি হয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও আইনি লড়াই

২০১৯ সালের ৮ জুন লোকসভা নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে জামাইষষ্ঠীর দিন ন্যাজাটের ভাঙিপাড়ায় দলীয় পতাকা টাঙানোকে কেন্দ্র করে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাঁধে। অভিযোগ ওঠে, তৎকালীন শাসকদলের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা শেখ শাহজাহান ও কাদের মোল্লার সশস্ত্র অনুগামীদের হামলায় খুন হন তিন বিজেপি কর্মী—প্রদীপ মণ্ডল, সুকান্ত মণ্ডল ও দেবদাস মণ্ডল। এই ঘটনায় দু’জনের দেহ উদ্ধার হলেও একজনের দেহ আজও সম্পূর্ণ নিরুদ্দেশ রয়েছে।

ঘটনার পর রাজ্য পুলিশ ও সিআইডি-র ভূমিকা নিয়ে তীব্র অনাস্থা প্রকাশ করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন নিহত বিজেপি কর্মীদের পরিবারের সদস্যরা। আদালতের নির্দেশেই পরবর্তীকালে গোটা মামলার তদন্তভার হাতে নেয় সিবিআই। বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, এই ঘটনার ন্যায্য বিচার হবে এবং দোষীরা কঠোর শাস্তি পাবে। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটতেই এর আগে সিবিআই এই মামলায় ১০ জনকে গ্রেফতার করেছিল। আর এবার নতুন করে আরও ৬ জনকে গ্রেফতার করায় সন্দেশখালিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

পরিবারের প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ

এই ৬ জনের গ্রেফতারির পর নিহত পরিবারের সদস্য সন্দীপ মণ্ডল বলেন, “২০১৯ সালের ৮ জুন শাসকদলের হার্মাদ বাহিনী শেখ শাহজাহান ও কাদের মোল্লার নেতৃত্বে আমাদের পরিবারের তিনজনকে নৃশংসভাবে খুন করেছিল। তখনকার সরকার পুরো ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে লড়াই করার পর হাইকোর্টের নির্দেশে সিবিআই তদন্ত শুরু হয়। আগে ধৃতদের পর ফের এই ছ’জনকে গ্রেফতার করায় আমরা আশাবাদী যে সঠিক বিচার পাব। তবে শুধু এই দুষ্কৃতীরাই নয়, যেসব পুলিশ অফিসার সে সময় তদন্তে প্রভাব খাটিয়ে মূল অপরাধীদের আড়াল করতে চার্জশিট থেকে নাম বাদ দিয়েছিলেন, সিবিআই তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।”

বিজেপি নেত্রী পিয়ালি দাস এই গ্রেফতারিতে সন্তোষ প্রকাশ করে জানান যে তাঁরা আশাবাদী, নতুন সরকার দোষীদের কঠোরতম শাস্তির ব্যবস্থা করবে। প্রসঙ্গত, এই ঘটনাতেই শেখ শাহজাহান-সহ একাধিক প্রভাবশালী অভিযুক্তের নাম মূল মামলা থেকে অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। যদিও সন্দেশখালির ত্রাস শাহজাহান বর্তমানে জেলেই বন্দি রয়েছেন। জানা গিয়েছে, ধৃতদের আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দ্রুত ন্যায়বিচারের আশায় এখন দিন গুনছে নিহতদের পরিবার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *