‘বিরলের মধ্যে বিরলতম’ নয়! মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে অভিযুক্ত স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট

হিন্দু বিয়ের রীতিনীতি মেনে বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণ করে সাতপাকে বাঁধা পড়ার শপথ ভুলে স্ত্রীকে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগে ফাঁসির সাজা দেওয়া হয়েছিল এক ব্যক্তিকে। বিচারপর্বে নিম্ন আদালত অভিযুক্তকে ‘দৈত্য’ তকমা দিয়ে ঘটনাটিকে ‘বিরলের মধ্যে বিরলতম’ বলে উল্লেখ করেছিল। তবে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে সেই মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ সম্পূর্ণ খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। পরিবর্তে অভিযুক্তের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতিরা।
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
ঘটনাটি ২০২৩ সালের জলপাইগুড়ির। সুজিত দে ভৌমিক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাঁর স্ত্রীর বাপের বাড়িতে বচসার জেরে ধারাল অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি নিজের চোখে দেখেছিল তাঁদের ৭ বছরের ছোট সন্তান। শুধু স্ত্রী নন, বাঁচাতে এলে আক্রান্ত হন শাশুড়ি ও দিদাও। স্ত্রীর মৃত্যু ছাড়াও শাশুড়ির বুকে গভীর ক্ষত তৈরি হয় এবং দিদার একটি চোখের দৃষ্টি সম্পূর্ণ হারিয়ে যায়। এই নৃশংসতার জেরে ২০২৫ সালের এপ্রিলে নিম্ন আদালত অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।
হাইকোর্টের রায়ের মূল পর্যবেক্ষণ:
নিম্ন আদালতের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অভিযুক্ত। মামলার শুনানিতে বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি স্মিতা দাস দে-র ডিভিশন বেঞ্চ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে:
-
পূর্ব পরিকল্পিত নয়: আদালত জানিয়েছে, ঘটনার মাত্র আধ ঘণ্টা আগেও স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে বসে চা খেয়েছিলেন, ফলে এটিকে একেবারে পূর্ব পরিকল্পিত ঠান্ডা মাথার খুন বলা চলে না।
-
সংশোধনের সুযোগ ও মানসিক অবস্থা: সুপ্রিম কোর্টের পূর্বের নির্দেশিকা স্মরণ করিয়ে আদালত জানায়, মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আগে অভিযুক্তের মানসিক অবস্থা এবং সুস্থ জীবনে ফেরার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা জরুরি। তাছাড়া জেলে থাকাকালীন অভিযুক্তের ভালো ব্যবহার ও কাউন্সেলিংয়ের দিকটিও নজরে রাখা হয়েছে।
-
পরিবারের নির্ভরতা: অভিযুক্তের পরিবারে একটি সন্তান এবং এক বৃদ্ধা মা রয়েছেন, যাঁরা তাঁর ওপর নির্ভরশীল।
সব দিক বিবেচনা করে হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের ‘বিরলের মধ্যে বিরলতম’ তকমা এবং ফাঁসির সাজা বাতিল করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে।