‘আমার বস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবে না…’ সেই কাকুর ডায়লগ টেনে কোন রহস্যের বোমা ফাটালেন আইএসএফ বিধায়ক?

বিধানসভা নির্বাচন মিটতেই ফের একবার রাজ্য রাজনীতিতে ‘বিজেপি-তৃণমূল সেটিং’ তত্ত্বকে সামনে এনে শোরগোল ফেলে দিলেন ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক তথা দলের চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকী। সোমবার কলকাতায় এক সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি তীব্র আক্রমণ শানান শাসক ও প্রধান বিরোধী শিবির উভয়ের বিরুদ্ধেই। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, রাজ্যে বাম, আইএসএফ এবং অন্যান্য বিরোধী শক্তির উত্থানে ভয় পেয়ে গেছে বিজেপি। সেই কারণেই ভোটের আগে যে তৃণমূলকে কোণঠাসা ও প্রান্তিক বলে মনে হচ্ছিল, ভোটের পরে সেই তৃণমূলকেই রাজনৈতিক ময়দানে অক্সিজেন জুগিয়ে ফের প্রাসঙ্গিক করে তুলছে গেরুয়া শিবির।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে গণতন্ত্র ও বিরোধীদের কণ্ঠরোধের প্রসঙ্গও জোরালোভাবে উত্থাপন করেন নওশাদ। তিনি বলেন, সংসদীয় ব্যবস্থায় বিরোধীরা যত শক্তিশালী হবে, গণতন্ত্র ততটাই সুরক্ষিত থাকবে। কিন্তু বর্তমানে রাজ্যে সেই বিরোধীদেরই পরিকল্পিতভাবে আটকানোর চেষ্টা চলছে। সামান্য একটি অফিসের বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে বিরাট পুলিশ বাহিনী পাঠিয়ে হেনস্থা করা হচ্ছে এবং রাজনৈতিক পরিসর সংকুচিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর সাফ কথা, এ সমস্ত কিছুর মাধ্যমেই আসলে তৃণমূলের মরা গাঙে জল ঢালার ব্যবস্থা করছে বিজেপি।
অতীতে দুর্নীতি, চাকরি বাতিল এবং ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে শাসক দলের বিরুদ্ধে যে পাহাড়প্রমাণ চাপ তৈরি হয়েছিল, তা আজ অনেকটাই স্তিমিত হয়ে গেছে বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন আইএসএফ বিধায়ক। প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “যে অন্যায় তৃণমূলের নেতারা করেছেন, বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি থেকে শুরু করে ২০২১-এর ভোট-পরবর্তী হিংসা—এত কারণে তো বহু নেতার জেলের ভেতরে থাকার কথা ছিল! কিন্তু তা নিয়ে আর কোনো জোরালো চর্চাই হচ্ছে না।” সিআইডির তদন্ত প্রক্রিয়া মাঝপথে থেমে যাওয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এই প্রসঙ্গে কটাক্ষের সুরে তিনি টেনে আনেন সেই আলোচিত ‘কাকু’ প্রসঙ্গ। নওশাদ বলেন, “সেই কাকুর বিখ্যাত ডায়লগটা আমার মনে পড়ে গেল—’আমার বস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবে না।’ সেই কাকুর ভয়েস টেস্ট এখন কোন পর্যায়ে আছে?”
চাকরি দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে আরও বেশি আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দেন নওশাদ। তাঁর বিস্ফোরক দাবি, তৃণমূলের দুর্নীতির কারণেই ২৬ হাজার চাকরি বাতিল হয়েছে। এই দুর্নীতিগুলিকে যদি সত্যি সঠিকভাবে খতিয়ে দেখা হয়, তবে আগের পুরো ক্যাবিনেটই জেলে চলে যাওয়ার কথা। কিন্তু বিজেপি যদি সত্যিই রাজনৈতিকভাবে তৃণমূলকে শেষ করতে চাইত, তবে পুরনো দুর্নীতির তদন্তে আরও অনেক বেশি কঠোর পদক্ষেপ দেখা যেত। অথচ তা না করে তৃণমূলকে রাজনৈতিকভাবে বাজারে জিইয়ে রাখার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নওশাদের মতে, সাধারণ মানুষের আসল সমস্যা—কর্মসংস্থান, শিক্ষা, নিরাপত্তা, মূল্যবৃদ্ধি ও উন্নয়ন থেকে জনগণের নজর ঘোরাতেই সচেতনভাবে ধর্মীয় মেরুকরণ এবং বিভিন্ন বিতর্কিত ইস্যুকে সামনে আনা হচ্ছে। নির্বাচনের আগে সিএএ-এনআরসি বা অন্যান্য বিষয় নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত তৈরি হলেও তার আড়ালে রাজ্যের আসল দুর্দশাগুলো ঢাকা পড়ে যায়। আইএসএফ নেতার এই চাঞ্চল্যকর ‘সেটিং’ মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। যদিও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিজেপি বা তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে নওশাদের এই অভিযোগের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।