নির্বাচন কমিশনের ওপর মেজাজ হারিয়ে শেষ পর্যন্ত কী আলটিমেটাম দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো?

বিধানসভা নির্বাচনের পর ঘাসফুল শিবিরে ঘনিয়ে আসা ভাঙন এবং দলীয় প্রতীক ও তহবিলের অধিকার নিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘ আইনি জটিলতা কাটাতে মরিয়া তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশন কোনো চূড়ান্ত রায় না দেওয়ায়, এবার তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অত্যন্ত কড়া ভাষায় চিঠি পাঠালেন তিনি। চিঠিতে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, অযথা কালক্ষেপ না করে যত দ্রুত সম্ভব এই বিবাদের নিরপেক্ষ ও চূড়ান্ত ফয়সালা করতে হবে।

উল্লেখ্য, বিধানসভা ভোটের পরেই তৃণমূলে বড়সড় ফাটল ধরে। দলের বহু বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় পৃথক দল গঠনের দাবি জানান এবং বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে তিনি রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতার আসনে বসছেন। যদিও পরবর্তীতে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট করে দেয় যে বিরোধী দলনেতা পদে তাঁর এই নিয়োগ সম্পূর্ণ অস্থায়ী এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সিঙ্গেল বেঞ্চ। কিন্তু এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরেই আসল তৃণমূল কংগ্রেস বা জেনুইন পক্ষ কে, তা নিয়ে কালীঘাট শিবির ও ঋতব্রত শিবিরের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব শুরু হয়। প্রশ্ন ওঠে, দলের ঐতিহ্যবাহী জোড়াফুল প্রতীক এবং বিপুল পরিমাণ দলীয় তহবিল বা ফান্ড কার অ্যাকাউন্টে বা নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

এই জটিল আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের নিষ্পত্তির জন্য গত ২ জুলাই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে উভয় শিবিরকেই নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। ৬ জুলাই দুই পক্ষই তাদের প্রাথমিক জবাব এবং নথিপত্র নির্বাচন সদনে জমা দেয়। জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে মহুয়া মৈত্র এবং সাগরিকা ঘোষের মতো কালীঘাট শিবিরের প্রতিনিধিরা সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ পেশ করেন। কিন্তু ঋতব্রত শিবির প্রমাণ জোগাড়ের অজুহাতে অতিরিক্ত সময় দাবি করায় আপত্তি তোলে কালীঘাট শিবির। প্রতিপক্ষকে কেন বিনা কারণে সুবিধা দেওয়া হবে, সেই প্রশ্ন তুলে গত ২৯ জুলাই প্রথমবার কমিশনকে চিঠি দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কথা ছিল, চলতি অগস্ট মাসের মধ্যেই এই বিরোধের নিষ্পত্তি করবে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু আগস্ট মাস শেষ হয়ে গেলেও কমিশনের তরফ থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা রায় ঘোষণা করা হয়নি। এই দীর্ঘসূত্রতা এবং গড়িমসিতে তীব্র ক্ষুব্ধ হয়েই এবার দ্বিতীয়বারের জন্য সরাসরি কমিশনের দরবারে কড়া চিঠি পাঠালেন তৃণমূল নেত্রী। রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের প্রতীক ও ফান্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এভাবে ঝুলে থাকা শাসকশিবিরের কাছে প্রবল অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই কমিশনকে আর এক মুহূর্তও সময় না দিয়ে অতি দ্রুত রায়দানের জন্য প্রবল চাপ তৈরি করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।দল ভাঙার পর থেকেই চরম অস্বস্তি!

Samrat Das
  • Samrat Das

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *