ডাইনোসরের আমলের এই প্রাণীটি শ্বাস না নিয়েও বেঁচে থাকে দিনের পর দিন! এর রহস্য ফাঁস হতেই ভাইরাল নেটদুনিয়া

বিচ্ছু হলো এক প্রাচীন জীব, যা ডাইনোসরদেরও পৃথিবীতে আসার লক্ষ লক্ষ বছর আগে থেকেই টিকে রয়েছে। কিন্তু আপনি কি জানেন, শ্বাস-প্রশ্বাস না নিয়ে টানা ছয় দিন পর্যন্ত পানির নিচে বেঁচে থাকতে পারে এই প্রাণীটি? শুধু তাই নয়, একবার খাবার খেয়ে পুরো এক বছরও অনায়াসে বেঁচে থাকার অবিশ্বাস্য ক্ষমতা রয়েছে বিচ্ছুর।

প্রকৃতির এই প্রাচীন ও অদ্ভুত প্রাণীটি নিয়ে মানুষের কৌতূহলের অন্ত নেই। সাধারণত মানুষ বা অন্য কোনো প্রাণী কয়েক মিনিটের জন্য শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হলে মৃত্যুর মুখে পতিত হয়। কিন্তু একটি বিচ্ছুকে গভীর জলে ফেলে দিলে সেটি সঙ্গে সঙ্গে ডুবে যায় না। কারণ, বিচ্ছুর শরীরে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শ্বাসছিদ্র থাকে এবং চরম পরিস্থিতিতে তারা সেই ছিদ্রগুলো পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারে। ফলস্বরূপ, কোনো রকম শ্বাসপ্রশ্বাস ছাড়াই তারা জলের নিচে ছয় দিন পর্যন্ত দিব্যি বেঁচে থাকতে পারে।

গল্পটা এখানেই শেষ নয়; আসল বিস্ময় লুকিয়ে রয়েছে তাদের খাদ্যাভ্যাসে। অন্যান্য প্রাণীদের মতো প্রতিদিন শিকার করার প্রয়োজন পড়ে না বিচ্ছুর। যখন পরিস্থিতি কঠিন হয় এবং খাদ্যের চরম অভাব দেখা দেয়, তখন এরা নিজেদের বিপাক ক্রিয়ার গতি এতটাই কমিয়ে দেয় যে শরীরের শক্তি খরচ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। শরীর এক অদ্ভুত “শক্তি-সাশ্রয়ী মোডে” চলে যায়। এই অনন্য ক্ষমতার জন্যই বিচ্ছু মাত্র একবার শিকার করে কিছু না খেয়েই পুরো এক বছর কাটিয়ে দিতে পারে।

আরেকটি মজার বিষয় হলো, রাতের অন্ধকারে যদি কোনো বিচ্ছুর ওপর অতিবেগুনি বা ইউভি টর্চলাইট ফেলা হয়, তবে তার পুরো শরীরটা হুবহু ভিনগ্রহের প্রাণীর মতো জ্বলজ্বল করতে শুরু করে। এর নেপথ্যে রয়েছে তাদের শরীরে থাকা নির্দিষ্ট কিছু প্রোটিন, যা ইউভি আলো সংস্পর্শে আসতেই জ্বলে ওঠে। বিজ্ঞানীদের কাছে এই রহস্য আজও সম্পূর্ণ স্পষ্ট নয়, যা বিচ্ছুকে আরও বেশি রহস্যময় করে তুলেছে।

সব মিলিয়ে, বিচ্ছুকে বলা চলে টিকে থাকার এক জীবন্ত যন্ত্র। বহু মহাপ্রলয় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েও যারা দিব্যি বংশবৃদ্ধি করে চলেছে। না খেয়ে বা শ্বাস না নিয়ে মৃত্যুকে ফাঁকি দেওয়ার এই অদ্ভুত ক্ষমতা প্রমাণ করে যে, প্রকৃতির বিবর্তন প্রক্রিয়ার চেয়ে বড় ম্যাজিক বোধহয় আর কিছুই হতে পারে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *