ঝড়ে উপড়ে যাওয়া মৃতপ্রায় গাছ ফিরিয়ে দিচ্ছে প্রাণ! আসানসোলের এই শিক্ষকদের মহৎ উদ্যোগ দেখে কুর্নিশ জানাবে বিশ্ব

ঝড়-বৃষ্টির দাপটে উপড়ে পড়া মৃতপ্রায় গাছগুলোকে বাঁচিয়ে ফের নতুন প্রাণের সঞ্চার করছেন একদল শৌখিন ও দায়িত্ববান শিক্ষক। কবি অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের কবিতার মতো ‘প্রাণই আশ্চর্য সম্পদ’—এই মন্ত্রকে পাথেয় করে পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলে গড়ে উঠেছে ‘গ্রিন হেভেন’ নামের এক অনন্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। পেশায় শিক্ষক হলেও তাঁদের মূল নেশা প্রকৃতি বাঁচানো এবং শহরের বুকে সবুজ ফিরিয়ে আনা।
কীভাবে শুরু হলো এই অসাধ্যসাধন?
করোনা মহামারীর সময়ে পথচলতি ও ফুটপাতবাসীদের রান্নাবান্না করে খাওয়ানোর মধ্যে দিয়ে যে দলের যাত্রা শুরু হয়েছিল, তাঁরাই পরবর্তীতে আসানসোলজুড়ে গাছ লাগানোর দায়িত্ব নেন। শুধু চারা রোপণ করেই দায়িত্ব শেষ করেন না তাঁরা, বরং গাছের সঠিক পরিচর্যাও নিশ্চিত করেন। গত এপ্রিল মাসের শেষের দিকে প্রবল ঝড়ে আসানসোল জেলা হাসপাতালের ভেতরে একটি ২০-২৫ বছরের পুরনো বটগাছ সম্পূর্ণ উপড়ে পড়ে। স্থানীয় মানুষ ও পথচলতি মানুষের বিশ্রামের সেই ছায়াতরুটিকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন এই শিক্ষকরা।
বিশেষ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে তাঁরা প্রথমে গাছের বড় বড় ডালপালা কেটে ফেলেন, যাতে শিকড়হীন গাছটি সহজে শুকিয়ে না যায়। এরপর জেসিবি মেশিন দিয়ে বড় গর্ত খুঁড়ে জৈব সার ও আসানসোল পুরনিগমের ভাড়ায় আনা জলের ট্যাংকারের সাহায্যে গাছটিকে আবার মাটিতে পুনঃস্থাপন করা হয়। দীর্ঘ তিন সপ্তাহ ধরে চলা এই অক্লান্ত পরিশ্রমের পর জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে সেই মৃতপ্রায় গাছের ডালে ডালে ফের নতুন কচি পাতা ও কিশলয় গজিয়ে ওঠে।
মানুষের মুখে মুখে ফিরছে এই ‘সবুজ বাহিনী’র সাফল্যের গল্প:
আসানসোল হাসপাতালের এই বটগাছ বাঁচানোর পর থেকেই সংগঠনের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। পরবর্তীতে মহিশিলা এলাকার বটতলা বাজার এবং বারাবনির পাঁচপাশিয়াতেও ঝড়ে উপড়ে যাওয়া একাধিক পুরোনো গাছকে তাঁরা একইভাবে ফিরিয়ে এনেছেন। গাছ বাঁচাতে এই পুরো প্রক্রিয়ায় একটি গাছে প্রায় সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়, যা তাঁরা নিজেদের পকেট থেকেই বহন করেন। তবে এই মহৎ কাজের খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর এখন এলাকার সাধারণ মানুষও তাঁদের সাহায্যে এগিয়ে আসছেন। শুধু গাছ বাঁচানোই নয়, শহরের বুজে যাওয়া পুকুর সংস্কারের কাজেও হাত লাগিয়ে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছেন আসানসোলের এই শিক্ষকরা।