বন্যায় ভেসে আসা ব্যাঙ্কের লকার ভেঙে টাকা লুটের মহোৎসব! হাতেনাতে ২৯ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ

ভয়াবহ হড়পা বান ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেই চরম অমানবিক ও বেআইনি কর্মকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর চিত্র সামনে এল নেপালে। বন্যার তোড়ে ভেসে যাওয়া একটি ব্যাঙ্কের লকার বা সিন্দুক ভেঙে সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ চুরির অভিযোগে মোট ২৯ জনকে গ্রেফতার করেছে নেপাল পুলিশ। ধাদিং জেলার ত্রিশূলী নদী এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ফোর্স (APF) এই অভিযুক্তদের আটক করে।

কী ঘটেছিল আসলে?

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় তীব্র স্রোতের জেরে একটি ব্যাঙ্কের লকার ভেসে গিয়ে ত্রিশূলী নদীর তীরে আটকে পড়েছিল। দুর্যোগের এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এলাকার কিছু মানুষ ওই লকারটি ভেঙে নগদ টাকা লুট করে বলে অভিযোগ। গোপন খবরের ভিত্তিতে পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশের যৌথ দল সেখানে হানা দেয় এবং তল্লাশি চালিয়ে ধৃতদের কাছ থেকে মোট ৯২ লাখ ৬৮ হাজার ৫ শত ৫ নেপালি রুপি উদ্ধার করে।

পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ:

ধাদিং জেলা পুলিশ অফিসের মুখপাত্র তথা ডিএসপি প্রকাশ দাহাল এই গণ-গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এই চুরির নেপথ্যে অন্য কেউ মদত জুগিয়েছিল কিনা এবং সিন্দুকটি ঠিক কোন ব্যাঙ্কের শাখার ছিল, তা খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে। ধৃতদের বেশিরভাগই স্থানীয় গালছি ও সিদ্ধালেখ এলাকার বাসিন্দা। পাশাপাশি চিতওয়ান ও পারসা থেকে এসে ধাদিংয়ে বসবাসকারী কিছু ব্যক্তিও এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

প্রশাসন কঠোর বার্তা দিয়ে জানিয়েছে, দুর্যোগ বা বিপদের সময়ে উদ্ধার হওয়া বা ভেসে আসা কোনো সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি বা অর্থ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া নিজের কাছে রাখা বা আত্মসাৎ করা মারাত্মক অপরাধ। এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে নেপাল প্রশাসন। উল্লেখ্য, এর আগে নারায়ণী নদীতে ভেসে যাওয়া এক মহিলার মৃতদেহ থেকে সোনার দুল চুরির একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সবমিলিয়ে সাম্প্রতিক এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আবহেও লোভের বশে এ ধরনের অপরাধমূলক ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দেশজুড়ে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *