জন্মদিনে কেক কেটে মোমবাতি ফুঁ দিয়ে নেভান তো? ৯৯% মানুষই জানেন না এর নেপথ্যের মর্মান্তিক ও অদ্ভুত ইতিহাস!

জন্মদিন মানেই রঙিন কেক, আর তার ওপর হরেক রকমের মোমবাতি জ্বালিয়ে এক ফুঁয়ে তা নিভিয়ে মনের ইচ্ছে পূরণ করা। ছোটবেলা থেকেই এই আনন্দে মেতে ওঠেন সকলে। কেক কাটার এই মুহূর্তটি জন্মদিনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, জন্মদিনে কেন কেকের ওপর মোমবাতি জ্বালিয়ে তা ফুঁ দিয়ে নেভানো হয়? শুনতে সাধারণ মনে হলেও এর পেছনের ইতিহাসটি বেশ রোমাঞ্চকর এবং চমকে দেওয়ার মতো।

প্রাচীন গ্রীসে এই রীতির শুরু:

ইতিহাসবিদদের মতে, জন্মদিনে মোমবাতি জ্বালানোর এই ঐতিহ্যের সূত্রপাত হয়েছিল সুদূর প্রাচীন গ্রীসে। সেসময় গ্রিকরা তাঁদের চাঁদের দেবী ‘আর্টেমিস’-এর জন্মবার্ষিকী অত্যন্ত আড়ম্বরে পালন করত। দেবীর সম্মানে তাঁরা গোল চাঁদের আকৃতির কেক তৈরি করতেন এবং তার ওপর মোমবাতি জ্বালাতেন। গ্রিকদের বিশ্বাস ছিল, মোমবাতির পবিত্র আলো চাঁদের মতো উজ্জ্বল এবং সেই মোমবাতির ধোঁয়া যখন আকাশের দিকে ওড়ে, তখন তা মানুষের প্রার্থনা সোজা দেবতাদের কাছে পৌঁছে দেয়। ঠিক সেই ধারণার থেকেই কেকের ওপর মোমবাতি জ্বালানোর প্রচলন শুরু হয়।

জার্মান রাজাদের হাত ধরে আধুনিক রূপ:

আজ আমরা যেভাবে জন্মদিন পালন করি, তার আধুনিক রূপটি এসেছে ১৮ শতকের জার্মানি থেকে। জার্মানিতে ছোটদের জন্মদিন পালন উৎসবকে বলা হতো ‘কিন্ডারফেস্ট’ (Kinderfest)। সেখানে কেকের ওপর বাচ্চার বয়সের সমান সংখ্যক মোমবাতি জ্বালানো হতো, আর তার সঙ্গে একটি বাড়তি মোমবাতি রাখা হতো—যা ছিল আগামী বছরের জন্য সুস্থভাবে বেঁচে থাকার আশার প্রতীক। সারাদিন ধরে সেই মোমবাতিগুলো জ্বালিয়ে রাখা হতো যাতে কোনো অশুভ শক্তি বা আত্মা ধারেকাছে ঘেঁষতে না পারে। এরপর দিনের শেষে শিশুটি এক ফুঁয়ে সমস্ত মোমবাতি নিভিয়ে মনে মনে একটি বিশেষ ইচ্ছে প্রকাশ করত। তাদের বিশ্বাস ছিল, এক ফুঁয়ে সব মোমবাতি নেভাতে পারলে সেই ইচ্ছে নিশ্চিতভাবে পূরণ হবে।

মোমবাতির ধোঁয়া ও হাততালির আসল রহস্য:

প্রাচীনকাল থেকেই মানবসভ্যতায় আগুনকে অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করা হতো। মানুষের বিশ্বাস ছিল, মোমবাতি নেভানোর সময় যে ধোঁয়া ওপরে ওঠে, তা মানুষের মনের গোপন বাসনাগুলো স্বর্গের দরজায় পৌঁছে দেয়। এছাড়া মোমবাতি নেভানোর পর চারপাশের সবাই মিলে যে জোরে হাততালি দেন, তার পেছনেও একটি কারণ রয়েছে। মূলত উচ্চ শব্দ করে পরিবেশ থেকে অশুভ শক্তি বা নেতিবাচক এনার্জি দূর করার জন্যই এই হাততালি দেওয়ার রীতি চালু হয়েছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *