টাটা সন্সের ইতিহাসে এই প্রথম! কোরাম না থাকায় বাতিল এজিএম, সময় বাড়াতে আরওসি-র দ্বারস্থ শিল্পগোষ্ঠী

টাটা সন্স তাদের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আয়োজনের জন্য রেজিস্ট্রার অফ কোম্পানিজ (আরওসি)-এর কাছ থেকে তিন মাসের অতিরিক্ত সময় মঞ্জুর করিয়ে নিয়েছে। পর্যাপ্ত সংখ্যক সদস্য বা কোরামের অনুপস্থিতির কারণে গত ১৮ আগস্ট নির্ধারিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভাটি স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছিল কোম্পানি। টাটা সন্সের দীর্ঘ ইতিহাসে এই প্রথমবার এজিএম স্থগিত হওয়ার পর তা সম্পন্ন করার জন্য বাড়তি সময়ের আবেদন করতে হলো।
মূলত স্যার রতন টাটা ট্রাস্ট (এসআরটিটি)-র ওপর আরোপিত আইনি বিধিনিষেধের জন্যই কোরামের সংকট তৈরি হয়। উল্লেখ্য, এসআরটিটি এবং স্যার দোরাবজি টাটা ট্রাস্ট (এসডিটিটি) যৌথভাবে টাটা সন্সের সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ারের মালিক। কিন্তু মহারাষ্ট্র চ্যারিটি কমিশনার এসআরটিটি-র সভা করা এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে না নেওয়ায়, এই দুই ট্রাস্টের যৌথভাবে নিযুক্ত সদস্যরা এজিএম-এ উপস্থিত থাকতে পারেননি। এর জেরে প্রয়োজনীয় কোরাম না থাকায় সভা মুলতুবি করতে হয়। তবে চ্যারিটি কমিশনার দ্রুত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলে, তিন মাস সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই সভা ডেকে নিতে পারে টাটা সন্স।
কেন নিষিদ্ধ করা হলো ট্রাস্টটিকে?
ট্রাস্টি বোর্ডের গঠন এবং মহারাষ্ট্র পাবলিক ট্রাস্টস অ্যাক্টের বিভিন্ন বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ সংক্রান্ত তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মহারাষ্ট্র চ্যারিটি কমিশনার এসআরটিটি-র ওপর এই স্থগিতাদেশ বজায় রেখেছেন। এদিকে বার্ষিক সাধারণ সভায় অংশ নেওয়ার জন্য চ্যারিটি কমিশনারের কাছে বিশেষ অনুমতি চেয়েছে ট্রাস্ট। পাশাপাশি, টাটা সন্সের পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচনের জন্য একটি নতুন কমিটি গঠনেরও আবেদন জানানো হয়েছে। বর্তমান চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন আগেই ঘোষণা করেছেন যে, আগামী ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি আর পুনর্নির্বাচনে লড়বেন না।
চন্দ্রশেখরনের পদের ভবিষ্যৎ কী?
নিয়ম অনুযায়ী এজিএম-এ পর্যায়ক্রমিকভাবে বোর্ড অফ ডিরেক্টরস থেকে চন্দ্রশেখরনের অবসর নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সভাটি আইনসম্মতভাবে অনুষ্ঠিত না হওয়ায় তাঁর পুনর্নিয়োগের বিষয়টি বর্তমানে অমীমাংসিত রয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈধ এজিএম-এ তাঁর পুনর্নিয়োগ চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত পরিচালক হিসেবে তাঁর পদমর্যাদা কোম্পানির অভ্যন্তরীণ নিয়ম এবং এজিএম স্থগিতের আইনি কাঠামোর ওপর নির্ভর করবে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সভা পিছিয়ে যাওয়ার কারণে এখনই চেয়ারম্যান পদে কোনো শূন্যতা তৈরি হচ্ছে না, কারণ এই পদটি মূলত পরিচালক হিসেবে তাঁর মেয়াদের সঙ্গেই যুক্ত।