পরীক্ষা আছে, বাড়ি যেতে পারব না! ঠিক কী হয়েছিল আমেথির নার্সিং ছাত্রীর সঙ্গে? রহস্যমৃত্যুতে চাঞ্চল্য

উত্তরপ্রদেশের আমেঠি জেলায় এক নার্সিং ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মুন্সিগঞ্জ থানা এলাকার ইন্দিরা গান্ধী স্কুল অ্যান্ড কলেজ অফ নার্সিং-এর ছাত্রাবাস থেকে ফাইনাল ইয়ারের এক জিএনএম ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই আকস্মিক মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই পুরো কলেজ চত্বরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। পাশাপাশি, একটি ফরেনসিক দলও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে।
মৃতার নাম দীপ্তি যাদব (২১)। তিনি সুলতানপুরের বলদিরাই থানা এলাকার সাইদুল্লাপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন এবং কলেজের হোস্টেলে থেকেই পড়াশোনা করছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ তাঁর নিজের রুম থেকেই উদ্ধার করা হয়। কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকেই প্রথম পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছিল।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন ঠিক সর্কাল ১১টার দিকে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল দীপ্তির। সেই সময় সে জানিয়েছিল যে তার পরীক্ষা রয়েছে, তাই সে এই মুহূর্তে বাড়ি যেতে পারছে না। পরিবারের দাবি, ফোনে কথা বলার সময় দীপ্তিকে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং সুস্থই মনে হয়েছিল। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরেই তাঁর মৃত্যুর সংবাদ পরিবারটিকে চরম বিপদের মুখে ফেলে দেয়।
দীপ্তির পরিবার এই মৃত্যুকে কোনোভাবেই আত্মহত্যা বলে মেনে নিতে নারাজ। উল্টে তাঁরা একে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলেছেন। পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তড়িঘড়ি মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা পুরো ঘটনার একটি উচ্চপর্যায়ের ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
গৌরিগঞ্জের পুলিশ সুপার অখিলেশ ভার্মা জানিয়েছেন, কলেজ কর্তৃপক্ষের দেওয়া খবরের ভিত্তিতেই পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং আইনি প্রক্রিয়া মেনে মরদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়। নিহত ছাত্রীর মোবাইল ফোন, কল ডিটেলস এবং অন্যান্য প্রমাণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী কর্মকর্তারা।