ছোট্ট একটা সেফটি পিন বদলে দিয়েছিল ইতিহাসের গতিপথ! ১৭০ বছরের এই অদ্ভুত আবিষ্কারের আসল রহস্য জানেন?

আজকের দিনে জামাকাপড় সামলানো কিংবা জরুরি প্রয়োজনে সেফটি পিন আমাদের নিত্যদিনের অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য এক সঙ্গী। পিনটি দেখতে যতটাই সাধারণ হোক না কেন, এর আবিষ্কারের পেছনে জড়িয়ে রয়েছে প্রায় ১৭০ বছরের এক রোমাঞ্চকর ইতিহাস। অভাবের তাড়না থেকে শুরু করে সামান্য একটি তারের টুকরোকে পেঁচিয়ে বিশ্বজুড়ে বিপ্লব ঘটিয়ে দেওয়ার এই গল্পটি অনেকেরই অজানা।
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ১৮৪৯ সালের জুলাই মাসে ওয়াল্টার হান্ট (Walter Hunt) নামক এক মার্কিন মেকানিক এই ছোট্ট ধাতব বস্তুটি প্রথম আবিষ্কার করেন। সে সময় এক বন্ধুর কাছ থেকে পাওয়া ১৫ ডলার দেনা শোধ করার জন্য ভীষণ অর্থকষ্টে ছিলেন তিনি। দেনা মেটানোর তাগিদেই ব্রাসের তৈরি একটি তারের টুকরো নিয়ে নাড়াচাড়া করতে করতে হঠাৎই তিনি এমন একটি যান্ত্রিক লুপ বা স্প্রিংয়ের নকশা তৈরি করে ফেলেন, যা হাত ফুটতে দেয় না অথচ কাপড়ের সঙ্গে শক্তভাবে আটকে থাকে।
দুঃখের বিষয় হলো, তাৎক্ষণিকভাবে এই আবিষ্কারের বাণিজ্যিক গুরুত্ব বুঝতে না পেরে ওয়াল্টার হান্ট মাত্র ৪০০ ডলারে তাঁর এই পিনের পেটেন্ট এক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দেন। আর সেই ব্যবসায়ী পরবর্তীতে এই সামান্য সেফটি পিন থেকেই কোটি কোটি ডলার মুনাফা অর্জন করেন। অথচ আবিষ্কারক হান্ট তার সিকিভাগেরও দেখা পাননি।
আজ প্রায় ১৭০ বছর পেরিয়ে গেলেও ফ্যাশন দুনিয়া থেকে শুরু করে ঘরের সাধারণ কাজে সেফটি পিনের গুরুত্ব এতটুকুও কমেনি। সামান্য একটি সেফটি পিনের এই বিস্ময়কর রূপান্তর আধুনিক প্রযুক্তির যুগেও এক দারুণ ইতিহাস হয়ে বেঁচে রয়েছে।