“দিনে মাত্র ২ ঘণ্টা স্ক্রিন টাইম”-ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারে এবার কড়া কড়াকড়ি!

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশু-কিশোরদের অতিরিক্ত নির্ভরতা, ব্যক্তিগত তথ্যের ব্যবহার এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে বড় অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ঐতিহাসিক সমঝোতায় পৌঁছেছে টেক জায়ান্ট মেটা। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের করা এই মামলায় মেটাকে মোট ১৮ বিলিয়ন ডলার জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ দিতে হচ্ছে। চুক্তিটি আদালতের চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য একাধিক কঠোর ও বাধ্যতামূলক সুরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে আগামী ১০ বছর ধরে বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ মেনে চলতে বাধ্য থাকবে মার্ক জুকারবার্গের প্রতিষ্ঠানটি।
এই চুক্তির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো কিশোর-কিশোরীদের স্ক্রিন টাইম বা ব্যবহারের সময়সীমা নিয়ন্ত্রণ। ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য প্ল্যাটফর্ম দুটিতে প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টার একটি ডিফল্ট সীমা নির্ধারণ করা হবে, যা অভিভাবকরা চাইলে পরিবর্তন বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। পাশাপাশি রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা এবং স্কুল চলাকালীন সময়ে নোটিফিকেশন ও প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। এমনকি অপ্রাপ্তবয়স্কদের পোস্টে লাইকের সংখ্যা লুকানো এবং চেহারা পরিবর্তনকারী ফিল্টার ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আসছে।
সুরক্ষার এই বেড়াজাল শুধু মেটার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। মেটার যুক্তি অনুযায়ী, এককভাবে একটি প্ল্যাটফর্মে কড়াকড়ি হলে কিশোররা অন্য অ্যাপে চলে যেতে পারে। তাই ইউটিউব ও টিকটকের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী প্ল্যাটফর্মগুলোকেও একই ধরনের সুরক্ষা বলয়ের মধ্যে আনার শর্ত যুক্ত করা হয়েছে এই চুক্তিতে। আগামী দিনে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের এই নতুন মডেল বিশ্বজুড়েই এক বিরাট প্রভাব ফেলতে চলেছে।