আমেরিকার সঙ্গে বিরাট প্রতিরক্ষা চুক্তি! ভারতীয় সেনার হাতে আসছে বিশ্বযুদ্ধ কাঁপানো ‘জ্যাভলিন’ মিসাইল

আমেরিকার তৈরি বিশ্বখ্যাত ‘জ্যাভলিন’ (Javelin) অ্যান্টি-ট্যাংক গাইডেড মিসাইল সিস্টেম কেনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে ভারত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সামরিক বিক্রয় (FMS) চুক্তির আওতায় ভারতীয় সেনাবাহিনী এর জন্য একটি লেটার অফ অফার অ্যান্ড অ্যাক্সেপটেন্সে স্বাক্ষর করেছে। গত ২৮ আগস্ট ওয়াশিংটন এই প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, এটি দুই দেশের কৌশলগত প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় একটি নতুন মাইলফলক।
আরটিএক্স (RTX) এবং লকহিড মার্টিনের (Lockheed Martin) যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই জ্যাভলিন হলো একটি বহনযোগ্য ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, যা যেকোনো ট্যাংক, সাঁজোয়া গাড়ি এবং সুরক্ষিত অবস্থান গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম। মার্কিন সেনাবাহিনী ও মেরিন কর্পস সহ বিশ্বের বহু দেশের সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যেই এটি সফলভাবে ব্যবহার করছে।
জ্যাভলিন মিসাইলের বিশেষত্ব কী?
জ্যাভলিন হলো একটি ম্যান-পোর্টেবল বা কাঁধে বহনযোগ্য অস্ত্র, যা ক্ষুদ্র ইনফ্যান্ট্রি টিম বা পদাতিক বাহিনী সহজেই বহন ও পরিচালনা করতে পারে। এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর ‘ফায়ার-অ্যান্ড-ফরগেট’ (Fire-and-Forget) বা দেগে দাও আর ভুলে যাও প্রযুক্তির গাইডেন্স সিস্টেম। একবার লক্ষ্য স্থির করে ফায়ার করার পর মিসাইল নিজেই তার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে, ফলে চালককে একটানা লক্ষ্য স্থির করে বসে থাকতে হয় না। দিন-রাত কিংবা যেকোনো প্রতিকূল আবহাওয়াতেও এটি সমান কার্যকর।
এটি মূলত সাঁজোয়া যান, বাঙ্কার এবং সুরক্ষিত লক্ষ্যবস্তুর ওপর ওপর থেকে বা টপ-অ্যাটাক পদ্ধতিতে আঘাত হানতে পারে, যেখানে ট্যাংকের বর্ম সাধারণত সবচেয়ে দুর্বল থাকে। আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধে ৫,০০০-এর বেশি সফল প্রয়োগের ইতিহাস রয়েছে এই অস্ত্রের। এছাড়া রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতেও ইউক্রেনীয় বাহিনীকে এই অস্ত্র ব্যাপকভাবে সরবরাহ করেছিল আমেরিকা।
ভারতীয় সেনার জন্য কেন এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?
পাহাড়ি অঞ্চল, সমভূমি কিংবা যেসব দুর্গম এলাকায় ভারী যানবাহন সহজে চলাচল করতে পারে না, সেখানে পদাতিক বাহিনীর সুরক্ষায় এই পোর্টেবল মিসাইল অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। ভারতের পাহাড়ি সীমান্তে শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে এটি সেনার শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
পাশাপাশি, এই চুক্তির ফলে কেবল সরাসরি কেনাকাটাই নয়, ভবিষ্যতে ভারতেই যৌথভাবে এই অস্ত্র উৎপাদনের (Co-production) পথও উন্মুক্ত হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে মার্কিন মিশন। ইতিপূর্বে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে আমেরিকা প্রায় ৯৩ মিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা প্যাকেজ অনুমোদন করেছিল, যার মধ্যে ১০০টি জ্যাভলিন সিস্টেম এবং ২১৬টি এক্সক্যালিবার গাইডেড আর্টিলারি প্রজেক্টাইল অন্তর্ভুক্ত ছিল। বর্তমান এই চুক্তি সেই প্রক্রিয়াকেই আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল।