৫ কোটির ফন্দি আঁটতেই সোজা পুলিশের জালে চাঁদাাবাজ! রাঁচির প্রবীণ চিকিৎসকের ওপর হুমকির নেপথ্যে কিসের লোভ?

ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচিতে এক বিশিষ্ট চিকিৎসকের কাছে ৫ কোটি টাকা চাঁদাবাজি এবং প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রাঁচি পুলিশের গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) লোহাড়দাগার বাসিন্দা দীপক কুমার দাস নামের ৪৬ বছর বয়সী ওই অভিযুক্তকে পাকড়াও করেছে। পাশাপাশি চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহৃত সিম কার্ডটিও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৯শে জুলাই থেকে রাঁচির আর্গোরা থানার অন্তর্গত অশোক নগর রোড নং ৪-এর বাসিন্দা ৬৮ বছর বয়সী প্রবীণ চিকিৎসক দুর্গাচরণ সিনহা লাগাতার হুমকি ফোন ও মেসেজ পাচ্ছিলেন। অভিযুক্তরা তাঁর কাছে ৫ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং টাকা না দিলে তাঁকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। தொடர்ச்சী এই হুমকিতে আতঙ্কিত হয়ে অবশেষে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই চিকিৎসক। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এফআইআর নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করে।
এসআইটি গঠন ও গ্রেপ্তার
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে হাতিয়া ডিএসপি নীরজ কুমারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত দল (SIT) গঠন করা হয়। পুলিশ প্রযুক্তিগত তদন্ত ও মানব গোয়েন্দার সাহায্য নিয়ে মোবাইল নম্বরটির উৎস শনাক্ত করে। এরপর ঝাড়খণ্ডের লোহারদাগা নিবাসী দীপক কুমার দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জমির লোভেই এই পরিকল্পনা
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। জানা গেছে, চাঁদাবাজির এই ঘটনার নেপথ্যে কাজ করেছে মূল্যবান জমি সংক্রান্ত বিরোধ। চিকিৎসক দুর্গাচরণ সিনহার রাঁচিতে বেশ কিছু মূল্যবান জমি রয়েছে এবং তিনি তা বিক্রির প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। পেশায় জমি ব্যবসায়ী অভিযুক্ত দীপক কুমার দাস এই বিষয়টি আগে থেকেই জানতে পেরে ওই জমির ওপর নজর দেয়। এরপর সে ডাক্তারবাবুর কাছে ৫ কোটি টাকা দাবি করে এবং সেই দাবি পূরণ না হতেই তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিতে শুরু করে।
বর্তমানে ধৃত অভিযুক্তকে জেরা করে এই গ্যাংয়ের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।