ঋতুপর্ণ নেই, কিন্তু রয়ে গেছে তাঁর সুর! জন্মদিনে কোন নস্ট্যালজিয়ায় ভাসতে চলেছেন দেবজ্যোতি মিশ্র?

বর্ষার এক পড়ন্ত বিকেল, বাইরে বৃষ্টির রিমঝিম শব্দ, ভেজা রেনকোট আর দূরে রেলগাড়ির চেনা হুইসল। কিংবা নেপথ্য থেকে ভেসে আসা কোনো বেহালার বিষণ্ণ সুর— রবীন্দ্রনাথের ‘অমল ধবল পালে’ হোক কিংবা ‘পিয়া তোরা ক্যায়সা অভিমান’ কিংবা ‘মেঘ পিওন’— এমন বহু নস্ট্যালজিক সুরের কোলাজে ফের একবার নস্ট্যালজিয়ায় ভাসতে চলেছে তিলোত্তমা।
আসছে ৩১ অগস্ট, প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা ঋতুপর্ণ ঘোষের জন্মদিন। সিনেমার ফ্রেমের সীমানা ছাড়িয়ে তাঁর বিজ্ঞাপনের কাজ, ছবির গানে রবীন্দ্রসংগীতের অনবদ্য প্রয়োগ এবং বহু জনপ্রিয় সৃষ্টির নেপথ্য কাহিনি নিয়ে এক অনন্য সন্ধ্যার আয়োজন করেছেন বিশিষ্ট সুরকার ও যন্ত্রী দেবজ্যোতি মিশ্র।
ঋতুপর্ণ-দেবজ্যোতি জুটির সুরের ম্যাজিক
ঋতুপর্ণ ঘোষের সঙ্গে একাধিক কালজয়ী ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছেন দেবজ্যোতি মিশ্র। ‘উৎসব’, ‘রেনকোট’, ‘চোখের বালি’ কিংবা ‘তিতলি’— ঋতুপর্ণের প্রতিটি ছবির প্রতিটা স্তরে সুরের নিখুঁত প্রলেপ এঁকেছিলেন দেবজ্যোতি। সুহৃদ পরিচালকের জন্মদিনে সেই চেনা সুরের পথ ধরেই জীবন্ত হয়ে উঠবে পর্দার পেছনের এক অচেনা ঋতুপর্ণকে আবিষ্কারের আড্ডা।
আগামী ৩০ অগস্ট কলকাতার জি.ডি. বিড়লা সভাঘরে সন্ধে ৬টা থেকে শুরু হবে এই বিশেষ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। এই সুর-সফরের মূল সূত্রধর থাকছেন দেবজ্যোতি মিশ্র নিজে। অনুষ্ঠানে তাঁর বেহালার জাদুর পাশাপাশি বিশেষ পারফর্ম করবেন শুভা মুদগাল, শুভমিতা, জয়তী, রাঘব, মনোময় এবং অনিন্দ্য। এ ছাড়াও মহাভারতের একটি বিশেষ অংশের পাঠ শোনাবেন সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণের প্রিয় কবিতা আবৃত্তি করবেন শোভনসুন্দর এবং সংগত করবেন বিশিষ্ট যন্ত্রসংগীত শিল্পীরা।
দেবজ্যোতি মিশ্রের কথায়, “ঋতু ছিলেন এক বহুমুখী প্রতিভার নাম। নানা বিষয়ে ভীষণ খুঁতখুঁতে, তর্কে হারানো মুশকিল, দারুণ সেন্স অফ হিউমার এবং ভীষণ সংগীতপ্রেমী এক মানুষ। সলিল চৌধুরীর গানের অন্ধ ভক্ত সেই ঋতুপর্ণকে আমি সেদিন আলোচনা, গান ও যন্ত্রসংগীতে ফুটিয়ে তুলব। এমন কিছু সৃষ্টিও সেদিন শেয়ার করা হবে, যা একসময় ভাবা হয়েছিল ব্যবহার করা হবে, কিন্তু আর করা হয়ে ওঠেনি।” ঋতুপর্ণপ্রেমী বাঙালির জন্য এই সন্ধ্যা যে এক আবেগঘন উপহার হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।