“সরকারকে মাথা নত করাতেই হবে!” রাহুল গান্ধীর এই ৫ বড় সাফল্য এবার ঘরে ঘরে প্রচার করবে হাত শিবির

বিগত দিনে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে একাধিক বিষয়ে বড়সড় সাফল্য পাওয়ার দাবি করল প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। দলের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী করতে এবং জনমানসে তাঁর প্রভাব আরও বাড়াতে এবার সুনির্দিষ্ট ৫টি বড় ইস্যুকে সামনে রেখে দেশজুড়ে প্রচারের পরিকল্পনা করেছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। দলের অন্দরে সিদ্ধান্ত হয়েছে, রাজ্য স্তরে দলীয় কর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে এই পাঁচটি পয়েন্ট তুলে ধরে জোরালো বার্তা দেওয়া হবে।

মোদী সরকারকে ‘নতজানু’ করার দাবি

কংগ্রেসের শীর্ষ মহলের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে নিট (NEET) পরীক্ষা থেকে শুরু করে একাধিক জনস্বার্থের ইস্যুতে রাহুল গান্ধী যে ধারাবাহিক লড়াই চালিয়েছেন, তার কাছেই একপ্রকার নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে কেন্দ্র। দলের পক্ষ থেকে এমন ৫টি বিষয়ের একটি নির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যেগুলিতে রাহুল গান্ধীর চাপে পড়ে সরকার শেষ পর্যন্ত দাবি মানতে বাধ্য হয়েছে বলে কংগ্রেসের দাবি।

রাহুলের ঝুলিতে যে ৫টি বড় সাফল্যের দাবি করছে কংগ্রেস:

  1. শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ: রাহুল গান্ধী সবার প্রথমে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের জোরালো দাবি তুলেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত তাঁকে পদ ছাড়তে হয়।

  2. পেলেট গান বিতর্ক: পেলেট গানের হামলায় আহত এক যুবকের মামলার আইনি প্রক্রিয়া এবং সংসদের শেষ দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর লোকসভায় এসে এই বিষয়ে বিস্তারিত ভাষণ ও আলোচনা করতে রাজি হওয়া—সবটাই বিরোধীদের নৈতিক জয় বলে দাবি করা হচ্ছে।

  3. জাতিগত আদমশুমারি: দেশের মাটিতে প্রথম জাতিগত আদমশুমারির দাবি তুলেছিলেন রাহুল গান্ধীই। শুরুতে প্রধানমন্ত্রী মোদী এই দাবিকে কটাক্ষ করলেও, পরবর্তীতে চাপের মুখে পড়ে মোদী সরকার নিজেই জাতিগত আদমশুমারি করানোর ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।

  4. আদিবাসী ছাত্রীদের হোস্টেল নীতি বদল: সম্প্রতি পুনের এক আদিবাসী ছাত্রী ১৩ বছর বয়স পর্যন্ত হোস্টেলে থাকার নিয়ম বদলানোর আর্জি জানালে, রাহুল গান্ধী মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশকে চিঠি লেখেন। ফলস্বরূপ, সরকার সেই বয়সসীমা বাড়িয়ে ৩০ বছর করতে বাধ্য হয়।

  5. অন্যান্য জনমুখী নীতি: সরকারের নীতিগত ত্রুটি ধরিয়ে দিয়ে জনস্বার্থে রাহুল গান্ধীর প্রতিটি অবস্থানই শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়েছে বলে দাবি কংগ্রেস শিবিরের।

নেতার জয় নয়, জনগণের জয়: সুরজেওয়ালা

পুরো কৌশলটি নিয়ে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ রণদীপ সুরজেওয়ালা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, এটি একা রাহুল গান্ধী বা কংগ্রেস দলের ব্যক্তিগত কোনো জয় নয়, বরং এটি দেশের সাধারণ মানুষেরই জয়। এই পাঁচটি কেন্দ্রীয় ইস্যুকে হাতিয়ার করে কংগ্রেস মূলত দেশবাসীকে এই বার্তাই দিতে চাইছে যে, একরোখা সরকারকে সঠিক পথে পরিচালনা করার জন্য শক্তিশালী জননেতার নেতৃত্ব অপরিহার্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা নির্বাচনের আগে রাহুল গান্ধীর ভাবমূর্তিকে সামনে রেখে কংগ্রেসের এই নতুন জনসংযোগ কৌশল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *