“চাকরি নাকি শিক্ষা”-Gen-Z-র সবচেয়ে বড় দাবি কোনটা জানলে চমকে যাবেন!

ইন্ডিয়া টুডে এবং সি-ভোটারের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘মুড অফ দ্য নেশন’ (MOTN) সমীক্ষা দেশের পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক ও সামাজিক আবহকে সামনে এনেছে। সাম্প্রতিক জেন-জি আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তৈরি এই ব্যাপক সমীক্ষা তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের আসল মানসিকতার এক স্পষ্ট ছবি তুলে ধরেছে। বর্তমান পরিস্থিতি থেকে আসন্ন নির্বাচন—দেশের মানুষের ভাবনাচিন্তা ঠিক কোন দিকে এগোচ্ছে, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য উঠে এসেছে এই রিপোর্টে।
চাকরি নাকি শিক্ষা, কোনটা সবচেয়ে বড় সমস্যা?
যখন দেশের জেন-জি বা তরুণ প্রজন্মকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে এই মুহূর্তে তাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় কী, তখন বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ কর্মসংস্থানের পক্ষেই রায় দিয়েছে।
-
৫৩ শতাংশ তরুণ-তরুণী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে চাকরি বা কর্মসংস্থানই তাদের কাছে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়।
-
২২ শতাংশ মানুষ শিক্ষাকে তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
-
১২ শতাংশের কাছে জীবনযাত্রার ব্যয় বা মুদ্রাস্ফীতি সবচেয়ে বড় সমস্যা, অন্যদিকে মাত্র ৪ শতাংশ মানসিক স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
এই পরিসংখ্যানগুলি প্রমাণ করে যে তরুণ সমাজের মনে বেকারত্বের সমস্যা অন্য সমস্ত আশঙ্কাকে ছাপিয়ে গেছে।
সুযোগ কার জন্য? এবং তৈরি করার দায়িত্বই বা কার?
দেশে সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে তরুণদের মধ্যে মিশ্র মত রয়েছে। ৩২ শতাংশ মনে করেন কঠোর পরিশ্রম ও প্রতিভা এখনও মূল চাবিকাঠি, ২৬ শতাংশের মতে অর্থ ও যোগাযোগই আসল, এবং ২২ শতাংশের ধারণা দেশে পর্যাপ্ত সুযোগের অভাব রয়েছে।
পাশাপাশি, এই তরুণদের কর্মসংস্থানের উপযুক্ত করে তোলার দায়িত্ব কার—এই প্রশ্নে আঙুল উঠেছে সরকারের দিকেই।
-
৬৩ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন যে যুবসমাজকে কাজের উপযোগী করে তোলার প্রাথমিক দায়িত্ব কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের।
-
১৪ শতাংশ মনে করেন এই দায়িত্ব স্কুল ও কলেজের, এবং ৯ শতাংশ বেসরকারি নিয়োগকর্তাদের এর জন্য দায়ী করেছেন।
সরকারের অগ্রাধিকার ও CJP-র ভবিষ্যৎ রাজনীতি
জনগণের চোখে এই মুহূর্তে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের উন্নতি (২৩ শতাংশ) এবং পরিকাঠামো ও মূলধনী ব্যয় বৃদ্ধি (২১ শতাংশ)। অন্যদিকে, রাজনৈতিক ময়দানে সদ্য আলোচনায় আসা নতুন ছাত্র সংগঠন CJP (ককরোচ জনতা পার্টি) নিয়ে সমীক্ষায় উঠে এসেছে কৌতূহলজনক তথ্য। ৩৯ শতাংশ মানুষ মনে করেন CJP-র একটি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বা প্রেশার গ্রুপ হিসেবেই থাকা উচিত, আর ২৬ শতাংশের মত তারা সরাসরি নির্বাচনে লড়ুক। তবে দলটিকে ভোট দেওয়ার প্রশ্নে ৩৩ শতাংশ হ্যাঁ বললেও, ৪৩ শতাংশ মানুষ সরাসরি না সূচক উত্তর দিয়েছেন।
নির্বাচন ও নির্বাচন কমিশন নিয়ে কমছে আস্থা?
সমীক্ষার সবথেকে উল্লেখযোগ্য দিক হল ভারতের নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে জনগণের আস্থার ক্রমহ্রাসমান চিত্র। অগাস্ট ২০২৫-এ ৬৪ শতাংশ মানুষ নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু বলে মনে করলেও, অগাস্ট ২০২৬-এ সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫২ শতাংশে। একইভাবে, নির্বাচন কমিশনকে ঘিরেও জনমত কার্যত বিভক্ত; ৪৩ শতাংশের আস্থা বাড়লেও ৩৮ শতাংশ মানুষ কমিশন নিয়ে নিজেদের অনাস্থার কথাই প্রকাশ করেছেন। সবমিলিয়ে, এই সমীক্ষা দেশের অর্থনৈতিক চাপ, কর্মসংস্থানের সংকট এবং সাধারণ মানুষের পরিবর্তিত রাজনৈতিক ভাবনার এক নিখুঁত দলিল।