নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানে নিখোঁজ মুকুল রায়ের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা! চরম উৎকণ্ঠায় শুভ্রাংশু রায়

পড়শি দেশ নেপালের ভয়াবহ হড়পা বান এবং মেঘভাঙা বৃষ্টির তাণ্ডবে বিপর্যস্ত বিস্তীর্ণ এলাকা। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মাঝেই সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর ও উদ্বেগজনক খবর। নেপালের প্রলয়ঙ্করী দুর্যোগের জেরে নিখোঁজ হয়েছেন রাজ্যের হেভিওয়েট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মুকুল রায়ের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়। ভয়াবহ এই বিপর্যয়ের পর থেকেই তাঁর সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর স্বামী তথা প্রাক্তন বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়।

মানস সরোবর যাত্রায় একাই গিয়েছিলেন শর্মিষ্ঠা

জানা গিয়েছে, কলকাতার একটি বেসরকারি পর্যটন সংস্থার ব্যবস্থাপনায় গত ২১ অগস্ট ৩২ জনের একটি দল মানস সরোবর তীর্থযাত্রার উদ্দেশ্যে নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। সেই দলেই একা সদস্য হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁদের সন্তানরা ভারতেই শুভ্রাংশু রায়ের কাছেই রয়েছে। কিন্তু নেপালে বিপর্যয়ের খবর সামনে আসার পর থেকেই শর্মিষ্ঠার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।

শুভ্রাংশু রায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বিশ্বজিৎ মিত্র সংবাদমাধ্যমকে জানান, আগামী ৭ সেপ্টেম্বর শর্মিষ্ঠার দেশে ফিরে আসার কথা ছিল। গত মঙ্গলবার রাতে শেষবার স্বামীর সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল তাঁর। সেই সময় তিনি নেপালের কোনো একটি প্রত্যন্ত গ্রামে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু বুধবার থেকেই তাঁর ফোন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে এবং আর কোনো যোগাযোগ করা যায়নি।

প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে পরিবার

স্ত্রীর নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়েই তৎপর হয়েছেন শুভ্রাংশু রায়। তিনি জানান, নিখোঁজ পর্যটকদের তালিকায় তাঁর স্ত্রীর নাম রয়েছে এবং রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক মহলের সঙ্গে তারা নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছেন।

এদিকে, নেপালের রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলায় হড়পা বানের জেরে পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত নেপাল পুলিশ অন্তত ১৭৫ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে এবং শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যে আনুমানিক তিন শতাধিক ভারতীয় নাগরিকও রয়েছেন বলে সরকারি সূত্রে খবর। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে রাজ্যের অন্তত ৩২ জন পর্যটক নিখোঁজ থাকার খবর এসে পৌঁছছে। তাঁদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে নবান্নের কন্ট্রোল রুম থেকে সমস্ত রকম চেষ্টা চালানো হচ্ছে এবং নেপাল সরকারের সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। রাজ্যবাসীর সাহায্যের জন্য ইতিমধ্যেই জরুরি হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *