স্কুলে তল্লাশির সময় মিলল নকলের স্লিপ! তারপর দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রের রহস্যমৃত্যুতে উত্তাল উত্তরপ্রদেশ

উত্তরপ্রদেশের ফতেহপুর জেলা থেকে একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও মর্মান্তিক ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। দ্বাদশ শ্রেণির এক ১৭ বছরের মেধাবী ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তেজস ওরফে যশু নামের ওই ছাত্র কানপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর পরই মৃতের পরিবার স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চরম মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন এবং ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
ঠিক কী ঘটেছিল ফতেহপুরের স্কুলে?
মৃত ছাত্র তেজস মুরাওঁ গ্রামের বাসিন্দা এবং সদর কোতোয়ালি এলাকার শিবপুরমে অবস্থিত ‘সরস্বতী বাল মন্দির ইন্টার কলেজ’-এর দ্বাদশ শ্রেণির (বি সেকশন) ছাত্র ছিল। পরিবারের অভিযোগ, সম্প্রতি স্কুল চলাকালীন তল্লাশির সময় তেজসের কাছ থেকে একটি নকলের স্লিপ বা চিরকুট উদ্ধার করা হয়। এরপরই স্কুল কর্তৃপক্ষ তার ওপর কঠোর পদক্ষেপ নেয় এবং তাকে স্কুলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। শুধু তাই নয়, পরিবারের আরও অভিযোগ, স্কুল প্রাঙ্গণেই ওই কিশোরের ওপর চড়াও হয়ে হামলা চালানো হয় এবং তার নামে ১,৫০০ টাকার একটি মোটা অঙ্কের জরিমানাও ধার্য করা হয়।
রাস্তায় অচেতন অবস্হায় উদ্ধার ও মর্মান্তিক পরিণতি
স্কুল চত্বরে এই চরম হেনস্থার পরেই ছাত্রটিকে সৌনারার কাছে অত্যন্ত সন্দেহজনক ও অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন দ্রুত সেখানে ছুটে যান এবং তাঁকে স্থানীয় মেডিকেল কলেজে ভর্তি করেন। কিন্তু সেখানে তেজসের শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটলে চিকিৎসকরা তাঁকে দ্রুত কানপুরে রেফার করেন। পরিবার অ্যাম্বুলেন্সে করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কানপুরে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে ওই কিশোর।
‘আমার একমাত্র সন্তানকে কেড়ে নিল!’ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিচার চাইলেন মা
পরিবারের একমাত্র প্রদীপ নিভে যাওয়ায় শোকে পাথর হয়ে গেছেন তেজসের বাবা-মা। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে ভেঙে পড়া মা এখন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাছে ন্যায়বিচারের আর্জি জানিয়েছেন।
কান্নায় ভেঙে পড়ে মা জানিয়েছেন, “স্কুলের অন্দরে আমার ছেলের সঙ্গে সেদিন ঠিক কী ঘটেছিল, তার সম্পূর্ণ সত্য ঘটনা সামনে আসতেই হবে। স্কুল কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি বা মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতনের ফলেই যদি আমার ছেলের মৃত্যু হয়ে থাকে, তবে আমি দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোরতম শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
কুলুপঁ এঁটেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন
এই রোমহর্ষক ঘটনার পর থেকেই একাধিক গুরুতর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রশ্ন উঠছে—নকলের চিরকুট পাওয়ার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ ঠিক কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছিল? স্কুল চত্বর থেকে ছাত্রটি কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে অচেতন অবস্থায় বাইরে গেল? এবং তার মৃত্যুর নেপথ্যে আসল কারণটাই বা কী?
তবে এই সংবেদনশীল ও চাঞ্চল্যকর বিষয়ে সরস্বতী বাল মন্দির স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা গণমাধ্যমের সামনে সম্পূর্ণ নীরবতা বজায় রাখে এবং কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করে। অন্যদিকে, ঘটনার দায়িত্বশীল জেলা প্রশাসনিক ও পুলিশ কর্তারাও এখনও পর্যন্ত কোনো প্রত্যক্ষ বিবৃতি দেওয়া থেকে বিরত রয়েছেন। এখন সকলের নজর রয়েছে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং পুলিশের চূড়ান্ত তদন্তের রিপোর্টের দিকে।