বাংলার ৩২ পর্যটকের কোনও খোঁজ মিলছে না, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হতেই চরম আতঙ্ক

ভয়াবহ হড়পা বানের গ্রাসে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হওয়া নেপালে বিপর্যয়ের ভয়াবহতা ক্রমশ বাড়ছে। নেপালের বিদেশমন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ১৭৫ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে প্রায় ৮০০ জন বিদেশি পর্যটকের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। যার মধ্যে প্রায় ৩০০ জন ভারতীয় পর্যটকও রয়েছেন। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের বহু পর্যটক নিখোঁজ থাকায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে বাংলা।
নিখোঁজদের তালিকায় বাংলার বহু বাসিন্দা
প্রশাসনিক ও স্থানীয় সূত্রে খবর, এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে শতাধিক ভারতীয়ের খোঁজ মিলছে না, যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলার বাসিন্দারাও রয়েছেন। কলকাতার একটি জনপ্রিয় ট্র্যাভেল ক্লাব ‘চলো যাই’-এর মাধ্যমে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় যাওয়া ৩২ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ওই দলে পর্যটকদের পাশাপাশি দু’জন ট্যুর ম্যানেজারও রয়েছেন।
ট্র্যাভেল ক্লাব সূত্রে খবর, ৩২ সদস্যের এই দলে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ ছাড়াও কলকাতার কসবা, চন্দননগর এবং বারাসতের বেশ কয়েকজন বাসিন্দা রয়েছেন। এছাড়া এই দলে আমেরিকায় বসবাসকারী এক ভারতীয় প্রবাসীও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। গত বুধবার সকাল প্রায় আটটা নাগাদ শেষবারের মতো পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ সম্ভব হয়েছিল। তারপর থেকে আর কোনো যোগাযোগ না মেলায় নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক বহুগুণ বেড়ে গেছে।
ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা, আশঙ্কায় পরিবারগুলি
উল্লেখ্য, নেপাল-চিন সীমান্তের তিব্বত অঞ্চলে ভয়াবহ ভূমিধস এবং হিমবাহের জলস্ফীতির জেরে আচমকাই ভোতে কোশি নদীতে হড়পা বান নামে। প্রবল জলস্রোতের সঙ্গে নেমে আসা পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের তোড়ে রাস্তাঘাট, সেতু ও অসংখ্য বাড়িঘর ভেসে গেছে। এর ফলে নেপালের একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সঙ্গে সমস্ত ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
বাংলার নিখোঁজ পর্যটকদের দ্রুত সন্ধান পেতে এবং তাঁদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে রাজ্য প্রশাসন ও ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে নিরন্তর যোগাযোগ রাখছেন উদ্বিগ্ন পরিবারের সদস্যরা। সবমিলিয়ে, প্রিয়জনদের খোঁজে এখন প্রহর গুণছে প্রতিটি পরিবার।