নেপালে বিপদে আছেন? জেনেনিন বাংলার WhatsApp হেল্পলাইন নম্বরগুলি কী কী?

চারিদিকে শুধু কাদা, জল আর ভেসে ওঠা মৃতদেহ। নেপালের বর্তমান পরিস্থিতি এককথায় মৃত্যুপুরী। নেপাল-চিন সীমান্তের তিব্বত অঞ্চলে ভয়াবহ ধস এবং হিমবাহ হ্রদের জলস্ফীতির জেরে নেমে আসা আকস্মিক ও বিধ্বংসী বন্যায় লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে গোটা উপত্যকা। এখনও পর্যন্ত ১৬৩ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। স্থানীয় প্রশাসনের আশঙ্কা, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

এই সর্বগ্রাসী বিপর্যয়ের জেরে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে বহু ভারতীয় তথা পশ্চিমবঙ্গবাসীর। পর্যটন বা কাজের সূত্রে নেপালে গিয়ে বহু বাঙালি নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেখানে বিপদে পড়া পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দাদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এবং দ্রুত তথ্য আদানপ্রদানের জন্য একাধিক জরুরি হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছে কলকাতা পুলিশ ও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ।

জরুরি হেল্পলাইন নম্বরগুলি একনজরে:

  • কলকাতা পুলিশ: টোল-ফ্রি নম্বর ১৮০০-৩৪৫-৫৬৭৮ এবং হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ৯৮৭৪৯০২৮৮০।

  • পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ: ল্যান্ডলাইন নম্বর ০৩৩-২৪৭৯৩৩১১ এবং হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ৯১৪৭৮৯০১১৮১।

  • ভবানী ভবন কন্ট্রোল রুম (সিআইডি): ০৩৩-২৪৭৯৪০৪৪ / ৯১৪৭৮৯০১১৪৬।

  • নেপালে ভারতীয় দূতাবাস: হেল্পলাইন নম্বর +৯৭৭ ৯৮৫ ১৩১ ৬৮০৭ এবং হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর +৯৭৭ ৯৭০ ৯১০ ৭৫০০।

কীভাবে ঘটল এই বিপর্যয়?

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ২৬ অগাস্ট সকাল ৯টা নাগাদ তিব্বত সীমান্তের কাছে ভয়াবহ ধস ও হিমবাহ হ্রদের জলস্ফীতির কারণে ভটেকোশি নদীতে হড়পা বান নামে। ইউএসজিএস (USGS)-এর তথ্য বলছে, ওই ধসের জেরে ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্পের সমতুল্য সিসমিক সঙ্কেত তৈরি হয়েছিল। নদীর প্রবল স্রোত নিমেষে ভাসিয়ে নিয়ে যায় বাজার, বাড়িঘর, রাস্তা ও একাধিক সেতু।

দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাসুয়া ও ধাদিং জেলা। সীমান্তবর্তী রাসুয়াগড়ি, তৈমুর বাজার এবং পর্যটনকেন্দ্র স্যাফ্রুবেসিতে ব্যাপক ধ্বংসলীলা চলেছে। ৬০টিরও বেশি হোটেল, লজ ও পাকা বাড়ি ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেনাবাহিনীর হেলিপ্যাডও, যার ফলে দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। ত্রিশুলি ও গোর্খার নিম্নাঞ্চলে জল ঢুকে প্লাবিত হয়েছে বহু গ্রাম। পাশাপাশি, ১৩টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বর্তমানে নিখোঁজদের উদ্ধার করা, যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করা এবং দুর্গতদের কাছে খাবার ও ওষুধ পৌঁছে দেওয়াই প্রধান চ্যালেঞ্জ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত সরকারের পক্ষ থেকেও ইতিমধ্যেই ১০ টন জরুরি ত্রাণসামগ্রী নেপালে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *