রংপুর হত্যাকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই হাওয়া! রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হিন্দু ব্যবসায়ী

বাংলাদেশের রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের নির্মম হত্যাকাণ্ডের জেরে যখন গোটা দেশে তীব্র উত্তাল পরিস্থিতি বিরাজ করছে, ঠিক তখনই চাঁদপুরে এক হিন্দু ব্যবসায়ীর সপরিবার রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পিন্টু দাস নামের ওই ব্যবসায়ী এবং তাঁর পরিবারের চার সদস্যের খোঁজ না মেলায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও কৌতূহল তুঙ্গে উঠেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাঁদপুর জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ খ্রিস্টান ছাত্র ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক উপমা দে।

জানা গিয়েছে, পেশায় ব্যবসায়ী পিন্টু দাস চাঁদপুর শহরে ‘এসকে শিল্পালয়’ নামে একটি সোনার দোকান চালাতেন। স্ত্রী রিমি, বড় ছেলে প্রিয়ম এবং ছোট ছেলে রূপমকে সঙ্গে নিয়ে তিনি শহরের একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করতেন। উপমা দেবীর অভিযোগ, স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি তাঁকে লাগাতার খুনের হুমকি দিচ্ছিলেন। এমনকি পরিবারের বাকিরাও বিষয়টি জানার পর থেকেই সপরিবার আচমকা অদৃশ্য হয়ে যান পিন্টু। তিনি কি সত্যিই ভারতে পালিয়ে এসেছেন, নাকি তাঁকে অপহরণ করা হয়েছে—তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে।

নেপথ্যে কি আর্থিক সংকট ও ঋণের চাপ?

স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশের দাবি, সপরিবার আত্মগোপন করে রয়েছেন পিন্টু। স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা ধার দেওয়ার কারবার করতেন তিনি। কিন্তু সম্প্রতি পাওনাদারদের সোনা ফেরত দিতে না পারায় তিনি তীব্র হুমকির মুখে পড়েছিলেন। এর পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবসায়ী সমিতির কাছ থেকেও চড়া সুদে ঋণ নিয়েছিলেন পিন্টু, যা তিনি পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন।

স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগকারীর দাবি, রঘুনাথপুরের বাসিন্দা রাসেল খান আড়াই ভরি সোনা বন্ধক রেখেছিলেন, বিনিময়ে নামমাত্র ৫০ হাজার টাকা পান। একইভাবে দক্ষিণ গুণরাজদীর জাহিদুল ইসলাম ও শুভঙ্কর মজুমদারও তাঁদের সোনা বন্ধক রাখার অভিযোগ তুলেছেন। পাওনাদারদের সন্দেহ, পরিস্থিতির চাপে পড়ে পিন্টু তাঁর পৈতৃক নিবাস চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে কিংবা অন্য কোথাও আত্মগোপন করে থাকতে পারেন।

পুলিশের ভূমিকা ও তদন্ত

এদিকে পিন্টু দাসের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় থানায় সুনির্দিষ্ট কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখনও নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেনি। চাঁদপুর সদর মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার ফিরদৌস জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে পিন্টু যদি স্বেচ্ছায় আত্মগোপন করে থাকেন, তবে তাঁকে খুঁজে বের করা কিছুটা কঠিন হবে। যদিও ঘটনার গুরুত্ব বুঝে সবদিক খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে চাঁদপুর সদর থানা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *