এআই কি মানুষের বিকল্প হতে পারে? বড় ধাক্কা খেয়ে নিজের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হলেন মেগা বস!

জুকারবার্গের গোপন ‘Project OT’ ফ্লপ! এআই দিয়ে ৬০% কর্মী ছাঁটাইয়ের মাস্টারপ্ল্যান ভেস্তে দিল কোন ভুল?
বিশ্বের টেক জায়ান্ট মেটা (Meta)-র অন্দরে কর্মী ছাঁটাই নিয়ে বড়সড় এক গোপন ষড়যন্ত্রের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। কোম্পানির সিইও মার্ক জুকারবার্গ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, হাজার হাজার কর্মীকে সরিয়ে তাদের জায়গায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-কে বসানো হবে। কিন্তু কর্মীদের তীব্র বगाবত এবং এআই প্রযুক্তির একের পর এক বড় ভুলের কারণে শেষ পর্যন্ত সেই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা মাঝপথেই বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।
কী ছিল এই গোপন ‘প্রজেক্ট OT’? চলতি বছরের শুরুতে হাওয়াইতে নিজের গোপন বাসভবনে শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে একটি গোপন বৈঠক করেছিলেন মার্ক জুকারবার্গ। সেই বৈঠকেই জন্ম নেয় ‘প্রজেক্ট OT’ (অর্গানাইজেশন ট্রান্সফরমেশন) বা প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তরের ছক। পরিকল্পনা ছিল, বিভিন্ন টিম থেকে প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কর্মী ছাঁটাই করা হবে এবং বাকি কর্মীরা শুধু ভার্চুয়াল এআই এজেন্টদের ওপর নজরদারি চালাবেন।
কেন ভেস্তে গেল এই মাস্টারপ্ল্যান?
-
কর্মীদের রোষ ও ট্র্যাকিং বিতর্ক: ছাঁটাইয়ের খবর ফাঁস হওয়ার পর কর্মীদের গতিবিধি ট্র্যাক করতে সিস্টেমে বিশেষ সফটওয়্যার ইনস্টল করে ম্যানেজমেন্ট। এর ফলে কর্মচারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন যে তাঁরা নিজেরাই নিজেদের চাকরি খাওয়ার এআই টুলকে ট্রেনিং দিচ্ছেন। সংস্থার অন্দরে শুরু হয় তীব্র অসন্তোষ ও প্রতিবাদ।
-
এআই-এর বড় বড় ভুল: অন্যদিকে, যে প্রযুক্তির ওপর ভর করে এই বড় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছিল, সেই এআই সিস্টেমই বারবার ভুল করতে শুরু করে। কোডিংয়ের গতি বাড়লেও সাইবার সিকিউরিটি ও টেকনিক্যাল সমস্যা প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়ে যায়। এমনকী হ্যাকাররা ত্রুটির সুযোগ নিয়ে আমেরিকার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পর্যন্ত হানা দেয়।
পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত ১৯ মে রাতে এক জরুরি বৈঠকে বসেন জুকারবার্গ। পরিকল্পনা বদল করে বড় ধরণের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয় এবং কেবল নামমাত্র কর্মী কমিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয় মেটা।