পর্দার খলনায়ককে দেখে জুতো পেটা ও গুলি করার হুমকি! ‘অজেয়া’র কমলাক্ষকে নিয়ে কেন এমন ফুঁসে উঠলেন দর্শকরা?

‘অজেয়া’র ‘কমলাক্ষ’ হয়ে উঠতে কী কী প্রস্তুতি নেন রীতম? খলনায়ক সেজে কীভাবে দর্শকদের রোষের মুখে পড়লেন অভিনেতা?

হইচই প্ল্যাটফর্মে সদ্য মুক্তি পাওয়া ‘অজেয়া স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স’ সিরিজটি দর্শকদের মধ্যে দারুণ সাড়া ফেলেছে। এই সিরিজের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হল ‘কমলাক্ষ পাণ্ডে’ চরিত্রটি, যাঁর নৃশংস রূপ ও শেষ পরিণতি নিয়ে নেটদুয়ায় এখন চর্চা তুঙ্গে। আপাদমস্তক এক নেতিবাচক ও অ্যান্টি-হিরো চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মনে দারুণ দাগ কেটেছেন অভিনেতা রীতম ব্যানার্জি ওরফে রিমো। দীর্ঘ ২৪ বছরের থিয়েটারের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে তিনি এই চ্যালেঞ্জিং চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলেছেন, তা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শেয়ার করেছেন।

শারীরিক গঠন নয়, অভিনয়েই বাজিমাত: চিরাচরিত খলনায়কদের মতো পেশীবহুল চেহারা না থাকা সত্ত্বেও কেবল অভিনয় ও এক্সপ্রেশন দিয়েই যে খল চরিত্র ফুটিয়ে তোলা যায়, তা প্রমাণ করেছেন রীতম। চরিত্রটি গড়ার জন্য তিনি নাট্যশাস্ত্রের ‘বীভৎস রস’ নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং গ্যারি ওল্ডম্যান ও এইডান গিলেনের মতো আন্তর্জাতিক অভিনেতাদের থেকে অনুপ্রেরণা নেন। পরিচালক অয়ন চক্রবর্তীর নিখুঁত নির্দেশনায় এবং চিত্রনাট্যের খাতিরে চরিত্রটিকে জীবন্ত করে তুলতে তিনি কোনো কসুর করেননি।

দর্শকদের গালমন্দই অভিনেতার আসল পুরস্কার: পর্দায় কমলাক্ষর চরম নেতিবাচক রূপ দেখে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়ার দর্শকরা রীতিমতো ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। কেউ জুতোপেটা তো কেউ আবার সামনে পেলে গুলি করার হুমকি দিচ্ছেন! তবে দর্শকদের এই গালমন্দ বা ক্ষোভকেই নিজের অভিনয় জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ও পুরস্কার বলে মনে করেন রীতম। এমনকী তাঁর নিজের ভাগ্নীও পর্দায় তাঁকে ওই রূপ দেখে কেঁদে ফেলেছিল!

টাইপকাস্ট হওয়ার ছক ভাঙার লড়াই: কমার্শিয়াল বা কমেডি ঘরানার চিরচেনা ইমেজ ভেঙে নিজেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ডাইমেনশনে মেলে ধরার জন্যই তিনি এই চরিত্রটি বেছে নেন। তবে এমন নৃশংস দৃশ্য শুট করার পর প্রথমদিকে কিছুটা মানসিক অস্বস্তিতেও পড়তে হয়েছিল তাঁকে। প্যাকআপের পর ঘোর কাটাতে কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকতে হতো। তবে সহ-অভিনেত্রী শিরিনের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গেই সমস্ত দৃশ্য সম্পন্ন করেছেন তিনি। সব মিলিয়ে, রীতমের এই অসাধারণ রূপায়ণই ‘অজেয়া’ সিরিজটিকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *