সকালে ঘুম থেকে উঠেই গলার স্বর বদলে গিয়ে ভারী বা কর্কশ হয়ে যায় কেন? আসল কারণ জানলে চমকে যাবেন!

ঘুম থেকে উঠেই গলার স্বর বদলে যায়, কেন বলুন তো? ‘মর্নিং ভয়েস’-এর আসল কারণ জানুন

সকালবেলা ঘুম ভাঙার পর অনেকেরই একটা সাধারণ অভিজ্ঞতা হয়—গলার স্বর যেন কেমন একটা বদলে গিয়েছে! স্বাভাবিকের তুলনায় কণ্ঠস্বর বেশ কিছুটা ভারী, কর্কশ বা বসে যাওয়া শোনায়। কারও কারও ক্ষেত্রে তো কথা বলতে শুরু করার আগে গলা পরিষ্কার করারও প্রয়োজন পড়ে। চিকিৎসা পরিভাষায় একে ‘মর্নিং ভয়েস’ বলা হলেও, ঠিক কী কারণে এমনটা হয়, তা কি জানেন? সাধারণত এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, তবে ঘুমের মধ্যে শরীরে ঘটে চলা কিছু স্বাভাবিক প্রাকৃতিক পরিবর্তনের ফলেই এমনটা ঘটে থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে মূলত কয়েকটি প্রধান কারণ রয়েছে:

  • শরীরের জলশূন্যতা (Dehydration): সারারাত দীর্ঘ সময় ধরে জল পান করা হয় না। ফলে ঘুমের কয়েক ঘণ্টায় শরীরে সামান্য জলশূন্যতা তৈরি হয়। এর জেরে গলার ভেতরের আর্দ্রতা কমে যায় এবং ভোকাল কর্ড বা স্বরতন্ত্রীও কিছুটা শুষ্ক হয়ে পড়ে। বিশেষ করে যাঁদের মুখ খোলা রেখে ঘুমানোর অভ্যাস রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও বেশি দেখা যায়। স্বরতন্ত্রীর সঠিক কম্পনের জন্য পর্যাপ্ত আর্দ্রতা অত্যন্ত জরুরি।

  • মিউকাস জমে যাওয়া: ঘুমের সময় আমরা কথা বলি না এবং ঢোক গেলার প্রবণতাও কমে যায়। এর ফলে গলা ও শ্বাসনালিতে তৈরি হওয়া মিউকাস সহজে পরিষ্কার না হয়ে কিছুটা জমে থাকে। রাতভর সেই মিউকাস ঘন হয়ে যাওয়ায় স্বরতন্ত্রীর কম্পনে সাময়িক প্রভাব পড়ে, যা কণ্ঠস্বরকে ভারী ও ভোঁতা করে তোলে।

  • শরীরের তরলের বিন্যাস: ঘুমের সময় দীর্ঘক্ষণ একটানা শুয়ে থাকার কারণে শরীরের বিভিন্ন অংশে তরলের বণ্টনে সামান্য পরিবর্তন ঘটে। এর প্রভাবে গলা ও স্বরতন্ত্রীর আশপাশে হালকা ফোলাভাব তৈরি হতে পারে, যা স্বাভাবিক স্বরকে বদলে দেয়।

কথা বলা শুরু করলেই কেন গলা ঠিক হয়ে যায়? সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর জল পান করলে, গলা পরিষ্কার করলে এবং কিছুক্ষণ কথাবার্তা বললে জমা হওয়া মিউকাস কেটে যায়। পাশাপাশি গলার আর্দ্রতা ফিরে আসায় স্বরতন্ত্রী ধীরে ধীরে আবার স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে শুরু করে। তাই কিছুক্ষণ পর কণ্ঠস্বর আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে গেলে ভয়ের কোনো কারণ নেই। পর্যাপ্ত জল পান করাও স্বরের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

তবে গলার স্বর যদি প্রতিদিন দীর্ঘক্ষণ কর্কশ থাকে, বারবার বসে যায় কিংবা অন্য কোনো শারীরিক উপসর্গের সঙ্গে এই পরিবর্তন দেখা যায়, তবে তা অবহেলা না করে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *