ছাত্র আন্দোলনে তোলপাড় পাটনা! বিজেপির বিরুদ্ধে গিয়ে সোজা রাস্তায় নেমে বড় বার্তা দিলেন চিরাগ পাসওয়ানি

৭০তম বিপিএসসি (BPSC) এবং শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে পাটনার রাস্তায় নেমে আসা ক্ষুব্ধ ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলন ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক শোরগোল শুরু হয়েছে বিহারের রাজনীতিতে। খাস এনডিএ জোটের শরিক হওয়া সত্ত্বেও বিজেপি এবং জেডিইউ-এর অবস্থানকে সম্পূর্ণ চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সরাসরি আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন লোক জনশক্তি পার্টির (রামবিলাস) জাতীয় সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসওয়ান। পুলিশের লাঠিচার্জের পরেই প্রতিবাদস্থলে ছুটে গিয়ে তিনি যেমন ছাত্রদের ক্ষোভের কথা শুনেছেন, তেমনই সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে সমস্ত দাবি পূরণের জোরালো সওয়াল করেছেন।

ছাত্র বিক্ষোভে রণক্ষেত্র পাটনা
গত মঙ্গলবার ৭০তম বিপিএসসি পরীক্ষার প্রার্থীরা বিভিন্ন দাবিতে পাটনায় মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী বিপুল সংখ্যক ছাত্র রাজভবন অভিমুখে এগোনোর চেষ্টা করতেই পুলিশি বাধার মুখে পড়তে হয় তাঁদের। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে বেধড়ক লাঠিচার্জ করে এবং বেশ কিছু জায়গায় জলকামানও ব্যবহার করা হয়। এতৎসত্ত্বেও আন্দোলন থেকে পিছু হটেননি ছাত্রছাত্রীরা।

পুলিশের এই বর্বরোচিত লাঠিচার্জের খবর পেয়েই আর চুপ করে থাকেননি চিরাগ পাসওয়ান। তিনি সোজা পাটনার গারদানি বাগে বিক্ষোভরত ছাত্রছাত্রীদের কাছে পৌঁছে যান এবং তাঁদের ১৫ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি গ্রহণ করেন। ছাত্রদের সঙ্গে আলোচনার পরই তিনি সটান দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর সঙ্গে।

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক ও চিরাগের এক্স (টুইটার) বার্তা
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে চিরাগ পাসওয়ান লেখেন, “আজ পাটনায় ৭০তম বিপিএসসি পরীক্ষার প্রার্থীদের ওপর লাঠিচার্জের দৃশ্য দেখে আমি গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছি। এনডিএ জোটের একজন দায়িত্বশীল অংশীদার হিসেবে ছাত্রছাত্রীদের ন্যায্য দাবিগুলো সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়া আমার নৈতিক দায়িত্ব ছিল। আজ পাটনা পৌঁছানো মাত্রই আমি বিক্ষোভস্থলে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে গিয়ে তাদের সমস্যাগুলি গুরুত্ব সহকারে শুনেছি।”

এরপর তিনি মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর কাছে বিপিএসসি প্রার্থী, বেলট্রন প্রার্থী এবং টিআরই-৪ (TRE-4) পরীক্ষার্থীদের দাবিগুলি অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরেন। চিরাগের দাবি, তরুণ প্রজন্ম ও চাকরিপ্রার্থীদের এই সংবেদনশীল সমস্যাগুলি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন যে, ছাত্রদের দাবিগুলি খতিয়ে দেখে খুব শীঘ্রই ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিজেপি ও জেডিইউ-এর প্রতিক্রিয়া
এদিকে এই ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের দিকেই আঙুল তুলেছে শাসক শিবির। বিজেপির দাবি, এই আন্দোলন সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তেজস্বী যাদব এবং রাহুল গান্ধী নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য সাধারণ ছাত্রদের বিভ্রান্ত করছেন এবং এই আন্দোলনে মদত জোগাচ্ছেন। সরকারের দাবি, পরীক্ষার্থীদের অধিকাংশ যুক্তিসঙ্গত দাবি ইতিমধ্যেই পূরণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, জেডিইউ-এর জাতীয় মুখপাত্র রাজীব রঞ্জন এই বিক্ষোভের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, টিআরই-৪ পরীক্ষার জন্য ৩২ হাজারের বেশি শূন্যপদ বরাদ্দ করা হয়েছে এবং পরীক্ষার সমস্ত প্রস্তুতি সম্পূর্ণ। এছাড়া প্রশ্নফাঁসের মতো দুর্নীতি ঠেকাতে রাজ্য সরকার একটি ৫ সদস্যের বিশেষ বিশেষজ্ঞ কমিটিও গঠন করেছে।

ছাত্রদের আসল দাবিগুলি কী কী?
বিক্ষোভকারী পরীক্ষার্থীরা মূলত ৭০তম বিপিএসসি পরীক্ষা বাতিল করা, বিপিএসসি টিআরই-৪ সহ সামগ্রিক সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আমূল সংস্কারের দাবি তুলেছেন। বিগত কয়েকদিন ধরে পাটনার গারদানি বাগে লাগাতার অবস্থান বিক্ষোভে বসে থাকা এই ছাত্ররা শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় পিটি-মেইনস পদ্ধতি চালু রাখা এবং পরীক্ষার নিয়মে নেগেটিভ মার্কিং বাতিলের জোরালো দাবি জানিয়ে আসছেন। এখন দেখার, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে সরকার শেষ পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে কী পদক্ষেপ নেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *