এনপিএস-এ বিরাট বদল! এবার কি আপনার পুরো পেনশন টাকাই খাটবে সরাসরি শেয়ার বাজারে? জানুন নতুন নিয়ম

পেনশন তহবিল নিয়ন্ত্রক ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (PFRDA) দেশের কোটি কোটি চাকরিজীবী ও বিনিয়োগকারীদের জন্য ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেমে (NPS) নিয়ে এল এক যুগান্তকারী পরিবর্তন। এতদিন ধরে এনপিএস-এর নিয়মে যে কড়াকড়ি ছিল, তা শিথিল করে বড় ঘোষণা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। নতুন মাল্টিপল স্কিম ফ্রেমওয়ার্ক (MSF)-এর আওতায় এখন থেকে বেসরকারি খাতের কর্মচারী এবং স্ব-নিযুক্ত ব্যক্তিরা চাইলে তাদের এনপিএস তহবিলের ১০০ শতাংশ অর্থই সরাসরি শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে পারবেন। যাঁরা দীর্ঘমেয়াদে বড় অঙ্কের রিটায়ারমেন্ট ফান্ড বা তহবিল গড়তে চান, তাঁদের জন্য এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কীভাবে কাজ করবে এই নতুন নিয়ম?নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, যে সমস্ত স্কিমে ‘উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ ভ্যারিয়েন্ট’ রয়েছে, সেগুলিতে শতভাগ বা ১০০% ইক্যুইটি বরাদ্দের সুবিধা মিলবে। এই ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো, একজন বিনিয়োগকারী এখন একটিমাত্র পার্মানেন্ট রিটায়ারমেন্ট অ্যাকাউন্ট নম্বর বা PRAN-এর অধীনেই বিভিন্ন পেনশন ফান্ড ম্যানেজারের একাধিক স্কিম বেছে নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা পাবেন। বর্তমানে এই সুবিধাটি মূলত কর্পোরেট কর্মী, স্ব-নিযুক্ত এবং সাধারণ নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, অতীতে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকারীদের ‘অ্যাক্টিভ চয়েস’-এর মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত ইক্যুইটি রাখার অনুমতি দেওয়া হতো। নতুন নিয়মে সেই সর্বোচ্চ সীমার বাধা পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়েছে। কারা সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন?শেয়ার বাজারে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের কৌশল সবসময়ই বেশি রিটার্ন দেয়। তাই আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন নিয়মটি ২০ থেকে ৩৫ বছর বয়সি তরুণ বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক প্রমাণিত হতে পারে। কারণ, এই বয়সের বিনিয়োগকারীদের সামনে দীর্ঘ সময় পড়ে থাকে। কর্মজীবনের প্রথম দিক থেকেই তহবিলের পুরো ১০০ শতাংশ শেয়ার বাজারে খাটলে চক্রবৃদ্ধি সুদের (Compounding) জাদুকরী সুফল মিলবে। যাঁদের বাজার নিয়ে ভীতি নেই এবং যাঁরা ঝুঁকি নিয়ে বেশি মুনাফা করতে চান, তাঁরা মিউচুয়াল ফান্ডের মতোই এনপিএস থেকে দারুণ রিটার্ন পেতে পারেন। ১০০% শেয়ারে বিনিয়োগের ঝুঁকি কতটা?শেয়ার বাজারের লাভ যেমন আকর্ষণীয়, এর ঝুঁকিও ঠিক ততটাই বেশি। কোনো কারণে স্টক মার্কেটে বড় ধস নামলে পেনশন তহবিলের আর্থিক মূল্যে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, যাঁদের বয়স অবসরের কাছাকাছি (যেমন ৫৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে), তাঁদের শতভাগ ইক্যুইটিতে বিনিয়োগ করার ঝুঁকি এড়িয়ে চলা উচিত। অন্যথায় শেষ বয়সে বাজার মন্দার কবলে পড়লে বড়সড় লোকসানের মুখে পড়তে হতে পারে অবসরকালীন সঞ্চয়।বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ কী?আর্থিক বিশেষজ্ঞরা একবাক্যে স্বীকার করেছেন যে, ক্যারিয়ারের শুরুতে তরুণরা শতভাগ ইক্যুইটিতে বিনিয়োগ করে দুর্দান্ত সম্পদ গড়ে তুলতে পারেন। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইক্যুইটির ঝুঁকি কমানো বুদ্ধিমানের কাজ। একটি নির্দিষ্ট বয়সসীমার পর বিনিয়োগের টাকা ধীরে ধীরে ডেট বা সরকারি সিকিউরিটিজের মতো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া উচিত, যাতে বাজারের আকস্মিক পতনেও মূল টাকা সুরক্ষিত থাকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *