মুক্তির আগেই ফ্লপ করানোর সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র! যশের ‘টক্সিক’ ঘিরে কোন বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস হল?

মুক্তি পেয়েছে অভিনেতা যশের বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘টক্সিক’। কিন্তু এই সিনেমার মুক্তির আগেই এর গল্প ও দৃশ্য নিয়ে যে দানা বাঁধা বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা যেন ছবি মুক্তির দিনে আরও বেশি তীব্র আকার ধারণ করেছে। একদিকে বক্স অফিস কালেকশন আর অন্যদিকে সমালোচকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়ায় সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন রীতিমতো ঝড় বইছে। এর মাঝেই দর্শকদের একটি বড় অংশ চাঞ্চল্যকর দাবি তুলেছে। তাঁদের অভিযোগ, সিনেমাটির প্রথম শো শেষ হওয়ার অনেক আগেই একশ্রেণির পেইড পিআর (টাকা দিয়ে প্রচার করানো দল) ইচ্ছাকৃতভাবে সোশাল মিডিয়ায় নেগেটিভ রিভিউ ছড়াতে শুরু করেছিল।

এক্স-এর পাতায় ভক্তদের ক্ষোভ ও সুপরিকল্পিত প্রোপাগান্ডা
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (সাবেক টুইটার)-এর পাতায় চোখ রাখলেই ভক্তদের তীব্র ক্ষোভ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ছবি মুক্তির মাত্র দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে কীভাবে গোটা ছবির মুন্সিয়ানা বা সমালোচনা করা সম্ভব—তা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। এক ভক্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, “সকাল ছ’টায় ‘টক্সিক’-এর প্রথম শো শুরু হয়েছে, আর মাত্র এক ঘণ্টা পেরিয়েছে। কিন্তু তার আগেই মানুষ এমনভাবে নেগেটিভ রিভিউ পোস্ট করে দিল, যেন তারা আস্ত সিনেমাটা ইতিমধ্যেই দেখে ফেলেছেন!”

অনেকের মতে, এই নেগেটিভ প্রচারের নেপথ্যে রয়েছে অন্ধ ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বিতা। অন্য একটি পোস্টে দাবি করা হয়েছে, বিশেষ কিছু ফেক অ্যাকাউন্ট ও বট থেকে সুপরিকল্পিতভাবে ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে। তবে প্রকৃত দর্শকদের একটাই পরামর্শ, সোশাল মিডিয়ার এই প্রোপাগান্ডায় কান না দিয়ে দর্শকরা যেন নিজে প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সিনেমাটি উপভোগ করেন।

তেলুগু পিআর নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ
কিছু পোস্টে আবার সরাসরি দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রির একটি নির্দিষ্ট অংশের বিরুদ্ধে নেগেটিভ পিআর করানোর গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। একটি ভাইরাল পোস্টে দাবি করা হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু তারকার ফ্যান ক্লাব এবং পেইড অ্যাকাউন্টগুলো গ্যাং তৈরি করে ‘টক্সিক’ ও যশকে টার্গেট করেছে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের সপক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনো পোক্ত বা আইনি প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সিনে-সমালোচকদের মতে, বর্তমান যুগে যেকোনো বড় বাজেটের ছবি মুক্তির দিনেই এই ধরনের ‘পেইড’ ট্রোলের শিকার হয়ে থাকে।

দর্শকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও বক্স অফিসের ভবিষ্যৎ
অন্যদিকে, যেসব দর্শক প্রথম শো শেষ করে সিনেমা হল থেকে বেরিয়ে এসেছেন, তাঁদের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। বড়পর্দায় যশের মেগাস্টার ইমেজ এবং তাঁর দুর্দান্ত স্ক্রিন প্রেজেন্স অনেক ভক্তকেই মুগ্ধ করেছে। তবে পাশাপাশি ছবির কিছু টেকনিক্যাল দিক বা চিত্রনাট্য নিয়ে কেউ কেউ আবার সামান্য অসন্তোষও প্রকাশ করেছেন। সব মিলিয়ে, চারপাশের বিতর্ক যতই ঘনীভূত হোক না কেন, বক্স অফিসে ‘টক্সিক’ নিজের গতিতেই এগোচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, উইকেন্ডে সাধারণ দর্শকরা এই ছবিকে শেষ পর্যন্ত কোন আসনে বসান!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *