খাবার খাচ্ছেন না কি স্লো পয়জন? ক্যাডবেরি, বর্নভিটা থেকে অ্যামওয়ে—বিখ্যাত কোম্পানির এই কারচুপি জানলে শিউরে উঠবেন!

পেটে দানাপানি না পড়লে সবাই কোটিপতি হয়ে যেত—এমন একটা কথা প্রচলিত রয়েছে। কারণ, শুধু খাওয়াদাওয়ার পিছনেই প্রতি মাসে হাজার হাজার টাকা বেরিয়ে যায়। কিন্তু মাথার ঘাম পায়ে ফেলে রোজগার করা টাকার বিনিময়ে যেসব খাবার আমরা খাচ্ছি, তা শরীরের জন্য আদৌ উপযুক্ত তো? গোটা দেশ থেকে ভেজাল এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যে ভরা খাদ্যপণ্যের যে ছবি উঠে আসছে, তাতে গত কয়েক মাস ধরে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ তুঙ্গে। অবশেষে নড়েচড়ে বসল খাদ্য সুরক্ষা এবং গুণমান যাচাইকারী সংস্থা FSSAI। আর তাদের কড়া পদক্ষেপে বড়সড় ধাক্কা খেল একাধিক জনপ্রিয় খাদ্য প্রস্তুতকারক সংস্থা।

খাবারের প্যাকেট থেকে বিভ্রান্তিকর দাবিদাওয়া এবং সেই সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন জোরপূর্বক সরাতে বাধ্য হয়েছে ক্যাডবেরি ডেয়ারি মিল্ক, বর্নভিটা, ওরিও, নারকেল তেল ও এনার্জি ড্রিঙ্কস প্রস্তুতকারী একাধিক সংস্থা। পাশাপাশি, পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে ভাজাভুজি স্ন্যাকস, বেবিফুড এবং প্রোটিন পাউডার প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলোও। FSSAI-এর কঠোর নির্দেশ অনুযায়ী তাদের প্যাকেজিং বদলাতে হয়েছে, কিংবা বহু পণ্য বাজার থেকে তুলে নিতে হয়েছে।

কোন সংস্থার বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ?

মন্ডেলেজ ইন্ডিয়া (Mondelez India): ভারতে ক্যাডবেরি ডেয়ারি মিল্ক, বর্নভিটা এবং ওরিও প্রস্তুতকারী এই সংস্থার বিরুদ্ধে খাবারের পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্যকর দিক নিয়ে বিভ্রান্তিকর দাবি করার অভিযোগ তুলেছিল FSSAI। শেষ পর্যন্ত নোটিসের মুখে পড়ে ওই সমস্ত দাবিদাওয়া তুলে নিতে বাধ্য হয়েছে তারা। ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম থেকেও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে পুরনো বিজ্ঞাপন।

অ্যামওয়ে ইন্ডিয়া (Amway India): সংস্থার তৈরি নারকেল তেলে ‘১০০% বিশুদ্ধ’ লেখা থাকত। কিন্তু FSSAI এই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। শেষ পর্যন্ত আমওয়ের তরফে জানানো হয়, বোতল এবং বিজ্ঞাপন থেকে ‘১০০%’ লেখাটি তারা নিজে থেকেই সরিয়ে নিয়েছে এবং আগের স্টক বাজার থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, তাদের ক্যাফিনেটেড পানীয়ের বোতল থেকে ‘Energy Drink’ কথাটিও বাদ দেওয়া হয়েছে।

অন্যান্য সংস্থা: প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট প্রস্তুতকারী ‘স্যাপিয়েন্স ল্যাবস’ (Sapiens Labs), ভাজাভুজি প্রস্তুতকারী ‘ভিচি অ্যাগ্রো’ এবং কেরলের বেবি ফুড বিক্রেতা ‘জুজা ফুডস’-এর বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ করেছে FSSAI। বেবিফুডের প্যাকেটে ‘১০০% ভিগান’, ‘ইমিউনিটি বুস্টার’ কিংবা ‘দুধের চেয়ে তিন গুণ ক্যালসিয়াম’-এর মতো বৈজ্ঞানিক ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর সোশ্যাল মিডিয়া ঘরানার হেলথ ট্যাগ ব্যবহার করায় সেগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, FSSAI-এর এই কড়া পদক্ষেপের ফলে সাধারণ ক্রেতারা আগামী দিনে অন্তত সঠিক তথ্য জেনেই খাদ্যপণ্য কিনতে পারবেন। তবে বড় বড় বহুজাতিক সংস্থাগুলো যেভাবে এতদিন মোড়কের আড়ালে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে এসেছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *