গর্ভবতী মায়েদের জন্য চরম সতর্কবার্তা! ফলিক অ্যাসিড বেশি খাচ্ছেন? বড় বিপদের মুখে পড়ছেন না তো?

গর্ভাবস্থার শুরুতেই চিকিৎসকেরা হবু মায়েদের ফলিক অ্যাসিড খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। গর্ভস্থ শিশুর মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের গঠনে এই ভিটামিনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নিউরাল টিউব ডিফেক্ট বা জন্মগত কিছু ত্রুটি প্রতিরোধে ফলিক অ্যাসিড অপরিহার্য। তবে নতুন এক গবেষণায় সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি মাত্রায় ফলিক অ্যাসিড সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের সঙ্গে গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে যোনিপথে রক্তপাতের একটি সম্ভাব্য বিপজ্জনক সংযোগ খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা।

অস্ট্রেলিয়ার ফ্লিন্ডার্স ইউনিভার্সিটি এবং সহযোগী গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা এই বিশেষ গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ২৪০০-র বেশি প্রথমবার মা হতে চলা মহিলার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন তারা। গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা প্রতিদিন ৮০০ মাইক্রোগ্রাম বা তার বেশি ফলিক অ্যাসিড গ্রহণ করেছিলেন, তাঁদের গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে স্পটিং বা হালকা রক্তপাতের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় অনেকটাই বেশি ছিল।

ছেলের মা হওয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকি কি আরও বেশি?
এই গবেষণার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য এবং চমকপ্রদ দিক হলো, ফলিক অ্যাসিডের সঙ্গে রক্তপাতের এই সম্পর্কটি গর্ভস্থ সন্তানের লিঙ্গের ওপরও নির্ভর করে। গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন, গর্ভে সন্তান পুত্রসন্তান হলে উচ্চমাত্রায় ফলিক অ্যাসিড গ্রহণকারী মায়েদের ক্ষেত্রে যোনিপথে রক্তপাতের আশঙ্কা মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। এই ধরনের ক্ষেত্রে ফলিক অ্যাসিড না নেওয়া মহিলাদের তুলনায় রক্তপাতের সম্ভাবনা প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি দেখা গেছে।

অবশ্য চিকিৎসকরা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে রক্তপাত হওয়া অত্যন্ত বিরল কোনো ঘটনা নয়। পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় পাঁচটি গর্ভাবস্থার মধ্যে একটিতে কোনো না কোনো সময় হালকা রক্তপাত হতে পারে। সব ক্ষেত্রে এটি খুব গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত না দিলেও, প্রথম দিকের রক্তপাতের সঙ্গে পরবর্তী সময়ে কিছু গর্ভকালীন জটিলতার যোগসূত্র থাকে। এর মধ্যে সময়ের আগে প্রসব, প্লাসেন্টা জরায়ুর দেওয়াল থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া এবং গর্ভকাল স্বাভাবিকের তুলনায় কম হওয়ার মতো ঝুঁকিগুলো অন্যতম।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও সতর্কতা
নতুন এই গবেষণার ফলাফল সামনে আসার পর আতঙ্কিত হয়ে হবু মায়েদের নিজে থেকে ফলিক অ্যাসিড খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া একেবারেই উচিত নয় বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন গবেষকরা। কারণ গর্ভাবস্থার শুরুতেই পর্যাপ্ত ফলিক অ্যাসিড গ্রহণ শিশুর জন্মগত ত্রুটি প্রতিরোধে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

গবেষকদের মতে, যেসব খাবারে ইতিমধ্যেই ফলিক অ্যাসিড যুক্ত থাকে, সেখানে অধিকাংশ নারীর ক্ষেত্রে প্রতিদিন মাত্র ৪০০ মাইক্রোগ্রাম ফলিক অ্যাসিডই যথেষ্ট। তবে কার শরীরে ঠিক কতখানি প্রয়োজন, তা ব্যক্তিভেদে আলাদা হয়। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজের সিদ্ধান্তে কখনোই ওষুধের মাত্রা বাড়ানো বা কমানো উচিত নয়। গর্ভাবস্থায় সামান্য রক্তপাত হলেও তা উপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং সঠিক নির্দেশিকা মেনে চলা মা ও অনাগত সন্তানের স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *