E20-পেট্রোলে গাড়ি নষ্ট হচ্ছে? চালকদের ক্ষোভের মুখে পড়ে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের!

দেশে ই২০ পেট্রোল অর্থাৎ কুড়ি শতাংশ ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি নিয়ে চলা বিতর্ক থামার কোনো লক্ষণ নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় সাধারণ মানুষের একাংশ লাগাতার দাবি করে চলেছেন যে এই জ্বালানি ব্যবহারের ফলে তাদের চার চাকা বা দু চাকার গাড়ির মাইলেজ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, ইঞ্জিনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশও নাকি দ্রুত বিকল হয়ে পড়ছে। মানুষের এই ক্রমবর্ধমান অভিযোগ এবং অসন্তোষের কথা মাথায় রেখে এবার বড়সড় পদক্ষেপ করার পরিকল্পনা করেছে কেন্দ্র।

সূত্রের খবর, সরকার এবার পেট্রোলে শুধু ইথানলের মিশ্রণের পরিমাণের ওপরই নয়, বরং জ্বালানির সার্বিক গুণমানের ওপরও বিধি-নিষেধ আরও কঠোর করতে চলেছে। সম্প্রতি বাজারে আসা ই২০ পেট্রোলে অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে বেশি ক্লোরাইড এবং অতিরিক্ত আর্দ্রতা থাকার অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে দেশের শীর্ষস্থানীয় গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলো তাদের গাড়ির যন্ত্রাংশের ত্রুটি নিয়ে প্রকাশ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার পেট্রোলে ক্লোরাইড এবং অন্যান্য ক্ষতিকারক উপাদানের একটি নির্দিষ্ট ঊর্ধ্বসীমা বাধ্যতামূলক করার কথা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পর এখন সরকারের সামনে আসল চ্যালেঞ্জ হলো দেশের প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে সঠিক মানের জ্বালানি পৌঁছানো নিশ্চিত করা।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, যানবাহনের যন্ত্রাংশে ত্রুটি এবং পেট্রোলে অতিরিক্ত ক্লোরাইডের উপস্থিতির অভিযোগ সামনে আসার পরই তেল কোম্পানিগুলোর জন্য মান নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা কঠোর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বাজারে জ্বালানির গুণমান বজায় রাখা এবং যেকোনো ধরনের ভেজাল রোধ করা। খুব শীঘ্রই সরকার তেল বিপণনকারী সংস্থা এবং মোটরগাড়ির জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত অন্য সব সংস্থাকে ই২০ পেট্রোলে ক্লোরাইডের মাত্রা নির্ধারিত সীমার মধ্যে রাখতে আইনিভাবে বাধ্য করতে পারে।

বর্তমানে নিয়ম অনুযায়ী ই২০ পেট্রোলে ক্লোরাইড দূষণের মাত্রা প্রতি মিলিয়নে ৩ অংশের কম থাকা উচিত, তবে এতদিন এটি বাধ্যতামূলক ছিল না। ওয়াকিবহাল মহলের খবর, জ্বালানির মান নির্ধারণকারী সরকারি সংস্থা ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস বা বিআইএস ইতিমধ্যেই এই বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছে।

কেন এই কঠোর সিদ্ধান্ত?

সম্প্রতি বেশ কিছু গাড়ির ফুয়েল ট্যাঙ্ক থেকে পেট্রোলের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। সেই নমুনায় অনুমোদিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় ক্লোরাইড পাওয়া গেছে, যা ই২০ পেট্রোলের গুণমান নিয়ে বড়ো প্রশ্নচিহ্ন তুলেছে। এই কারণেই সরকার এখন কেবল ইথানল মিশ্রণের শতাংশের হিসেব কষেই ক্ষান্ত থাকছে না, বরং জ্বালানির ভেতরে থাকা ক্ষতিকারক পদার্থগুলোর ওপরও কড়া নজরদারি চালাতে শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *