কলকাতা বইমেলায় বড় ধাক্কা! পুরোনো কমিটি ভেঙে নতুন মুখ আনল সরকার, কাদের কুপোকাত হতে হলো?

কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার পরিচালন ব্যবস্থায় এক ঐতিহাসিক ও বড়সড় রদবদল ঘটাল রাজ্য প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে চলা পুরোনো অ্যাডভাইজরি কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন সদস্য নিয়ে এই কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। বইমেলার আয়োজক পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ডের একচ্ছত্র আধিপত্য এবং বছরের পর বছর একই ব্যক্তিদের কমিটিতে বহাল থাকা নিয়ে প্রকাশকদের একাংশের মধ্যে দীর্ঘদিনের চাপা অসন্তোষ ছিল। সাম্প্রতিক এই প্রশাসনিক পদক্ষেপে সেই অসন্তোষেরই বড় প্রতিফলন দেখা গেল।
অতীতে এই প্রভাবশালী কমিটিতে শিল্পী শুভাপ্রসন্ন এবং যোগেন চৌধুরীর পাশাপাশি তৎকালীন হেভিওয়েট মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও ফিরহাদ হাকিমের মতো প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা যুক্ত ছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে চলা এই কাঠামোর স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সম্প্রতি প্রকাশকদের একাংশ মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্তের কাছে গিল্ডের কাজ ও আচরণ নিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন এবং এই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নতুন করে গঠিত অ্যাডভাইজরি কমিটিতে পুরনো মুখের পরিবর্তে আনা হয়েছে দেবজিৎ সরকার, দেবজ্যোতি দত্ত, বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তনুজা চক্রবর্তীকে। পাশাপাশি, ধর্মীয় ও সামাজিক ভাবমূর্তি বজায় রাখতে রামকৃষ্ণ মিশনের প্রতিনিধি স্বামী আর্যেশানন্দ ও স্বামী সারস্বতানন্দকেও এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
যদিও বইমেলার মূল আয়োজক এবং ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ডই বহাল থাকছে, তবে তাদের কাজের ওপর নজরদারি ও সহায়তা করতে এবার নতুন এই অ্যাডভাইজরি কমিটি কাজ করবে। প্রশাসনিক মহলের আশা, নতুন এই মুখের সমাহার বইমেলার পরিচালনায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনবে এবং মেলা ব্যবস্থাপনায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।