বাংলায় পালাবদলের জল্পনার মাঝেই বড় ঘোষণা! এবার সুকান্ত মজুমদারের ওপর কোন বড় দায়িত্ব দিল গেরুয়া শিবির?

রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদলের জোর আলোচনার মাঝেই এবার পুরসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিতে ময়দানে নেমে পড়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। দলের অভ্যন্তরীণ সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, আগামী দিনে কলকাতা পুরসভা অর্থাৎ ‘ছোট লালবাড়ি’ দখলকে পাখির চোখ করে ইতিমধ্যেই রণকৌশল সাজাতে শুরু করেছে গেরুয়া শিবির। শুধু কলকাতাই নয়, পিছিয়ে নেই হাওড়া পুরসভার ভোট প্রস্তুতিও। দুই প্রধান পুরনিগমের লড়াইয়ে কাদের হাতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়ে গেছে জোর চর্চা।
কলকাতা পুরভোট পরিচালনার দায়িত্ব সুকান্ত মজুমদারের কাঁধে
বিজেপি সূত্রে খবর, কলকাতা পুরসভার ভোট প্রক্রিয়া ও রণকৌশল পরিচালনার জন্য ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ কমিটির ইনচার্জ বা প্রধান দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার-কে। এছাড়াও এই কমিটিতে কো-ইনচার্জ হিসেবে রাখা হয়েছে রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব সামলাবেন মানিকতলার বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রবীণ নেতা তাপস রায় এবং সহ-আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন কাশীপুর-বেলগাছিয়ার বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সুকান্ত মজুমদারের মতো হেভিওয়েট ও অভিজ্ঞ নেতার হাতে কলকাতার মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে যে, আসন্ন পুরভোটকে বিজেপি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে।
হাওড়ার দায়িত্ব রাহুল সিনহার হাতে
শুধু কলকাতাই নয়, হাওড়া পুরসভার নির্বাচন নিয়েও সমান তৎপরতা দেখাচ্ছে বিজেপি। মঙ্গলবারই হাওড়া পুরসভার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজ্যসভার সাংসদ তথা দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহা-র হাতে। পাশাপাশি, আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিজেপি বিধায়ক সঞ্জয় সিনহাকে।
সম্ভাব্য ভোট ও বর্তমান পরিস্থিতি
দলীয় সূত্রে খবর, চলতি বছরের পুজো মিটলেই অর্থাৎ আগামী নভেম্বর বা ডিসেম্বর নাগাদ কলকাতা ও হাওড়ায় পুরভোট অনুষ্ঠিত হতে পারে। আর সেই সম্ভাব্য সময়সীমাকে সামনে রেখেই এখন থেকেই সংগঠনকে মজবুত করতে চাইছে গেরুয়া শিবির। দীর্ঘ আট বছর ধরে হাওড়ায় কোনো নির্বাচিত বোর্ড নেই। অন্যদিকে, কলকাতার বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতিতে প্রশাসক হিসেবে পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। সব মিলিয়ে, পুজোর আগেই বাংলার এই দুই বড় পুরভোটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ এখন থেকেই চড়তে শুরু করেছে।