আমেরিকার সবচেয়ে বড় শর্ত মানবে ইরান? পাক সেনাপ্রধানের তেহরান সফরে তোলপাড় বিশ্ব রাজনীতি!

আমেরিকা ইরানের ওপর থেকে অবরোধ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে চায়। বিনিময়ে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে হবে এবং আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর হামলা বন্ধ করতে হবে। বিশ্ব রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই কূটনৈতিক প্রস্তাব নিয়ে তেহরানে গিয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। প্রখ্যাত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়া ইংলিশ-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এসেছে।
আমেরিকার শর্ত নিয়ে ইরানে পাক-সেনাপ্রধান
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির তাঁর তেহরান সফরের সময় সরাসরি ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে আমেরিকার এই বিশেষ প্রস্তাব পৌঁছে দেন। তেহরান যাওয়ার আগে এই সংকট নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা হয় মুনিরের।
ইরান সফরে গিয়ে মুনির দেশের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব এবং সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি মোহসেন রেজাইয়ের সঙ্গে অত্যন্ত “স্পষ্ট এবং চূড়ান্ত” আলোচনা করেন।
আমেরিকার প্রস্তাব ও শর্তসমূহ
আল আরাবিয়া ইংলিশ-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, মুনির জোর দিয়ে বলেন যে ইরানের মদতপুষ্ট গোষ্ঠীগুলোর হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তিনি জুনে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সই হওয়া সমঝোতা স্মারক (MoU) মেনে চলার জন্য ইরানের নেতৃত্বকে অনুরোধ করেন। মুনির উল্লেখ করেন যে, আগের দ্বিপাক্ষিক বোঝাপড়া নষ্ট করার জন্য ওয়াশিংটন এবং তেহরান উভয়পক্ষই সমানভাবে দায়ী।
ওয়াশিংটনের মূল প্রস্তাব হলো— ইরান যদি হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে এবং তাদের প্রক্সি নেটওয়ার্কের হামলা বন্ধ করে, তবে তারা সামুদ্রিক অবরোধ এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে।
ইরানের পাল্টা অবস্থান ও প্রতিক্রিয়া
তবে আমেরিকার এই শর্তের বিপরীতে ইরানের নেতৃত্বও পাল্টা চাপ সৃষ্টি করেছে। মোহসেন রেজাই জোর দিয়ে বলেন যে, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে ইরানের হাতে এবং আমেরিকাকে সবার আগে “তার আচরণ পরিবর্তন করতে হবে এবং সমঝোতা স্মারকের শর্তাবলী বাস্তবায়নের জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে”।
অন্যদিকে, পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ আমেরিকার বিরুদ্ধে “অঙ্গীকার ভঙ্গের অসংখ্য উদাহরণ” তুলে ধরেছেন। তিনি জানান যে আমেরিকার কথা না রাখার কারণেই পারস্পরিক অবিশ্বাস আরও গভীর হয়েছে এবং অঞ্চলে স্থিতিশীলতা আসেনি।
এছাড়াও, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পাক সেনাপ্রধানকে সতর্ক করে বলেন যে, আমেরিকার এই ধরনের “জবরদস্তি এবং ধমক” কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলবে। তবে তিনি যোগ করেন যে, ইরান প্রতিবেশী ইসলামিক দেশগুলোর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার জন্য সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি
এই কূটনৈতিক দরকষাকষির মাঝেই মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ঘোষণা করেছেন যে, ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলোর সঙ্গে “নীরব কূটনীতি” চালাচ্ছে। একই সঙ্গে ইরানের ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি এবং শিপিং সেক্টরকে লক্ষ্য করে নতুন নিষেধাজ্ঞা তৈরির প্রস্তুতিও চলছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে বয়কট করার জন্য অন্যান্য দেশগুলোকে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পরিকল্পনা করলেও, কূটনৈতিক আলোচনা চালু থাকায় এখনও পর্যন্ত বড় কোনো নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করা থেকে বিরত রয়েছে।